সোসাইটি ফর দ্যা ওয়েলফেয়ার অব দ্যা ইন্টেলেকচুয়ালি ডিসএবল্ড, বাংলাদেশ (সুইড বাংলাদেশ) কুমিল্লা জেলার বার্ষিক সাধারণ সভা রোববার সকালে কুমিল্লা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রেড ক্রিসেন্ট কুমিল্লা ইউনিটের চেয়ারম্যান হাজী মো. মোস্তাক মিয়া।
সংগঠনের সভাপতি ডা. গোলাম শাহজাহানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শাহাজাদা এমরানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ সভাপতি জামিল আহমেদ খন্দকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, “এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অবহেলা নয়, বরং সঠিক পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সুইড বাংলাদেশের মতো সংগঠনগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে এসব উদ্যোগকে সফল করতে বেসরকারি সংগঠন, অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি সুইড বাংলাদেশের কার্যক্রমের প্রশংসা করে ভবিষ্যতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. গোলাম শাহজাহান বলেন, সুইড বাংলাদেশ কুমিল্লা জেলা শাখা দীর্ঘদিন ধরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সংগঠনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভার শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন সদস্য ডা. আবদুল আউয়াল।
সংগঠনের সভাপতি ডা. গোলাম শাহজাহানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শাহাজাদা এমরানের সঞ্চালনায় দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয় বার্ষিক সাধারণ সভা।

এ সময় সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পাঠ করেন শাহাজাদা এমরান ও অর্থ সম্পাদকের রিপোর্ট পাঠ করেন মো. আবদুল কুদ্দুছ।
এ সময় রিপোর্টের উপর আলোচনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শাহপুরী বেগম, যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামান মানিক, অর্থ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুছ, সদস্য জিয়া উদ্দিন ঠাকুর,সৈয়দ আহমেদ লাভলু ,সিরাজুল ইসলাম মিলন, অধ্যক্ষ নার্গিস আক্তার, শাহানা হক, জিয়াউল মাওলা, আরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
সদস্য নার্গিছ আক্তারের প্রস্তাবে সভায় সর্বোস্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, সুইড বাংলাদেশের সদস্যগণ এখন থেকে সংগঠনে বাধ্যতামূলক ভাবে বাৎসরিক কমপক্ষে ১ হাজার টাকা চাঁদা দিবেন সংগঠনের স্বার্থে।
স্কুলের সীমানা প্রাচীরসহ নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয় এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে এ সকল সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে ঐক্যমত পোষন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সংগঠনের বিগত বছরের কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় বার্ষিক প্রতিবেদন ও আর্থিক হিসাব উপস্থাপন ও অনুমোদন করা হয়। শেষে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।