হর্ষবর্ধন শ্রিংলার মন্তব্য কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন: জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ভারতের রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলার করা মন্তব্যকে কূটনৈতিক রীতিনীতিবিরোধী আখ্যায়িত করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং একটি বৈধ ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জামায়াত সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পররাষ্ট্র নীতিমালার লঙ্ঘন। বিশেষ করে একজন সাবেক কূটনীতিক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, জামায়াত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে কখনো জিততে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। অতীতে তারা কখনোই পাঁচ থেকে সাত শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। তাদের সেরকম জনসমর্থন নেই। কেউ তাদের আগে নিয়ে আসছে। তারপরও, নির্বাচনে অনিয়ম হলেই তারা (ক্ষমতায়) আসতে পারবে। নয়তো আসা অসম্ভব।

এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জামায়াত সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তথ্যবিকৃত ও রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। একটি দেশের জনগণ কাকে ভোট দেবে এবং কাকে ভোট দেবে না তা সম্পূর্ণ সেই দেশের জনগণেরই এখতিয়ার। কোনো রাজনৈতিক দল কী পরিমাণ জনসমর্থন পাবে তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদের নেই। বাংলাদেশের জনগণই এ দেশের মালিক এবং তারাই নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

বাংলাদেশে নির্বাচন কীভাবে হবে কিংবা কোন দল কত ভোট পাবে, এ ধরনের মন্তব্য করে তিনি (শ্রিংলা) বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন, অভিযোগ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতের এ নেতা জানান, তারা একটি নিবন্ধিত, গণতান্ত্রিক ও আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল। এ দেশের জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রশ্নে তারা সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণই প্রকৃত রায় দেবে। এ বিষয়ে তাদের কোনো সংশয় নেই।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, ভারতের দায়িত্বশীল মহল এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকবেন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখবেন।’