‘হামার বউ, ছোল সগি গেল’বাড়িতে বাড়িতে শোক

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

‘হামার বউ, ছোল সগি গেল। তিন বছর আগোত ব্যাটাক বিয়া করাচি, ব্যাটার শাশুড়িও মরি গেল। একসাতে সকলে মরল। হামরা একন কাকে নিয়ে বাঁচমো। কেটা হামাক ভাত আন দিবে। ছোলটে আর বাপ কয়া ডাকপ্যার নয়। তোমরা হামার বউ-ছোলোক আনি দাও।’

গতকাল শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত পাঁচজনই গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আজ সকাল আটটার দিকে তাঁদের মরদেহ নিজপাড়া গ্রামে পৌঁছায়।

আজ সকালে নিজপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ। নিহত ব্যক্তিদের বাড়িতে চলছে আত্মীয়স্বজনের আহাজারি। আশপাশের লোকজন নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।

নিজপাড়া গ্রামের নিহত রিপা বেগমের বাড়িতে চলছিল আহাজারি। চার বছর ধরে টাঙ্গাইলের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন রিপা। তাঁরা পাঁচ ভাইবোন। মেয়ের মৃত্যুতে রিপার বাবা আবদুর রশিদ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি কৃষক মানুষ। কোনোমতে সংসার চলে। আমার মেয়ে রিপার বিয়ে হয়নি। সে চার বছর ধরে পোশাক কারখানায় চাকরি করছে। আশা ছিল, কিছুদিন পর মেয়েকে বিয়ে দেব। সব আশা মাটি হয়ে গেল।’ এ সময় রিপার মা বিলকিস বেগম নির্বাক বসে ছিলেন।

ঘরের পাশে আঙিনায় মুখে কাপড় দিয়ে কাঁদছিলেন নিহত সুলতানের স্ত্রী শামসুন্নাহার। তিনি বলেন, ‘আমার সোয়ামি কেমন করে মরল, তোমরা হামার সোয়ামিক আনি দাও।’
সুলতানের বাবা আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ছেলেটা চাকরি করে প্রতি মাসে টাকা পাঠাত। সেই টাকায় আমাদের সংসার চলত। এখন কে টাকা পাঠাবে।’ নিহত সুলতানের তিন বছর বয়সী মেয়ে নাজিফা তখন শুধু বাবাকে খুঁজছিল।

গতকাল রাত আটটার দিকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় পৌঁছালে বাসটির তেল ফুরিয়ে যায়। তখন বাসটি মহাসড়কের পাশে থেমে যায়। এ সময় বাসের কয়েকজন যাত্রী নিচে নেমে পাশের রেললাইনে বসে ছিলেন। ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন তাঁদের ধাক্কা দেয়। এতে ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলেসহ পাঁচজন নিহত হন।