সরকারি সূত্র জানায়, অবৈধ ভারতীয়রা গড়ে গত আড়াই বছর ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন। বেশিরভাগই এসেছেন অনঅ্যারাইভাল এবং ট্যুরিস্ট ভিসায়। বিশ্বস্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই মুহূর্তে দেশে অবস্থান করছেন সাত হাজার ৩০৯ জন বিদেশি নাগরিক। এদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক চার হাজার ৯৯৭ জন। এছাড়া ৬০৯ জন চীনা, ৩৭৬ জন নেপালি, ১৪০ জন পাকিস্তানি, ফিলিপাইনের ১২৭, শ্রীলংকার ১২০ এবং অন্যান্য দেশের ৯৪০ জন নাগরিক রয়েছেন। বৈধভাবে অবস্থান করা বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ১৩ হাজার ৫৩৬ জন।
জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী যুগান্তরকে বলেন, অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের সব সময় আমরা নজরদারিতে রাখার চেষ্টা করি। তারা কোনো অপরাধ তৎপরতায় যুক্ত হলে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে আমাদের বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। তাই এ নিয়ে বেশি কাজ করার সুযোগ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। আমরাও কার্যক্রম শুরু করেছি। গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযান জোরদার করব।
নিয়ম অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কোনো বিদেশি নাগরিক প্রথম ১৫ দিন দৈনিক এক হাজার টাকা করে জরিমানা দিয়ে দেশে অবস্থান করতে পারেন। ১৫ দিন পার হয়ে গেলে ৯০ দিন পর্যন্ত প্রতিদিনের জন্য দুই হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হয়। আর ৯০ দিনের বেশি হয়ে গেলে প্রতিদিনের জন্য তিন হাজার টাকা করে জরিমানার বিধান রয়েছে। সরকারের কোষাগারে এই জরিমানা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশ ত্যাগ করতে পারেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যেসব বিদেশি নাগরিক জরিমানা দেওয়া ছাড়াই বছরের পর বছর দেশে অবস্থান করছেন, তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনি।’
একটি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, নাইজেরিয়ার বেশকিছু নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশের পর তাদের পাসপোর্ট নষ্ট করে ফেলেছে। তারা সম্পূর্ণ অবৈধভাবেই বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এসব নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকার ইচ্ছা করলে তাদের মাফ করে দিয়ে ট্রাভেল অথরাইজেশনের মাধ্যমে নিজ দেশে পাঠিয়ে দিতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু নাইজেরিয়ান নাগরিক জরিমানা মওকুফ চেয়ে আবেদন করেছেন। তাদের আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের নিয়ে বেশ আগে থেকেই কাজ করছিল ডিবি। গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বেশকিছু বিষয় সামনে চলে আসায় সেগুলোর ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে খুব একটা নজর দেওয়া যায়নি। সম্প্রতি তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশা করছি, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুগান্তর