আমাদের দিয়ে কাজ আদায় করে নেন, কিন্তু দূরে সরিয়ে দেবেন না

সংবাদ সম্মেলনে কেএমপি কমিশনার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের বিষয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার বলেছেন, ‘আমাদের দিয়ে কাজ আদায় করে নেন। কিন্তু দূরে সরিয়ে দেবেন না। আমি সরে গেলে আরেকজন তো আসবে। তাঁকে দিয়ে তো কাজ করাতে হবে। এখানে ৩ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য আছেন। তাঁদের মনোবল যদি ভেঙে যায়, সেটা খুলনাবাসী বা দেশের কারও জন্য ভালো হবে না।’

মঙ্গলবার দুপুরে কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কেএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি উঠে আসে।

জবাবে কেএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমাকে আনফ্রেন্ড করবেন না। আমাকে অবন্ধু মনে করবেন না। আমি আপনাদের শত্রু নই। আমি এখানে কাজ করতে চাই। সত্যি সত্যি আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটাতে চাই।’

গত ২৫ জুন থেকে কেএমপি কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন চলছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে কেএমপি কমিশনার বলেন, ‘পুলিশ কিন্তু পদত্যাগ করতে পারে না। কর্তৃপক্ষ চাইলে প্রত্যাহার করতে পারে বা অন্য কোথাও পদায়ন করতে পারে। আমার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত। আমার আন্তরিকতার ঘাটতি আছে কি না, সেটা আপনারা বিবেচনা করবেন। তবে পুলিশকে যদি দূরে ঠেলে দেন, তাহলে তাদের দিয়ে ভালো কাজ করানো কঠিন হয়ে যাবে।’

পুলিশ কমিশনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ইজিবাইক চুরি বা ছিনতাইকে কেন্দ্র করে পাঁচটি, মাদক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাতটি, চুরি নিয়ে একটি, পরকীয়া সম্পর্কের কারণে পাঁচটি, পারিবারিক কলহে তিনটি এবং অন্যান্য কারণে পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে।

মাদকের বিষয়ে জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, মাদকের কারণে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হচ্ছে। মাদক বিক্রেতা, বাহক ও যারা বাইরে থেকে মাদক এনে খুলনায় সরবরাহ করেন, তাঁদের ওপর পুলিশের নজরদারি অব্যাহত আছে। গত সপ্তাহে হরিণটানা থানা এলাকা থেকে ১৯ হাজার ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়েছে। নিয়মিত অভিযানেও মাদক উদ্ধার হচ্ছে। তিনি বলেন, স্কুল-কলেজপড়ুয়া সন্তানদের সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে। সন্ধ্যার পর তারা যেন অযথা বাইরে ঘোরাফেরা না করে, সেদিকে অভিভাবকদের নজর দিতে হবে।

ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, খুলনায় প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। এর প্রায় ৬০ শতাংশ বাইরের এলাকা থেকে আসে। চালকদের ট্রাফিক আইনের জ্ঞান না থাকায় যানজট বাড়ছে। কেএমপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাকি চালকদের তিন থেকে চার মাসের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে। রাজশাহীর আদলে খুলনায়ও ইজিবাইককে দুই রঙে ভাগ করে এক দিন পরপর চালানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. আবু তারেক, উপকমিশনার (সিটিএসবি) আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও উপকমিশনার (ট্রাফিক) সুদর্শন কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন।