কুমিল্লায় বেড়েছে ধর্ষণ, ছিনতাই ও চোরাচালান

জাহিদ হাসান নাইম
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

 

কুমিল্লায় জুন মাসে ধর্ষণ, আহত, ছিনতাই, অস্ত্র উদ্ধার ও চোরাচালানের মতো অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে কিছু অপরাধ প্রবণতায় সামান্য হলেও কমতির ধারা লক্ষ্য করা গেছে। জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার (১৩ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সার।

 

সভায় জানানো হয়, কুমিল্লায় জুন মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৫ টি, যা এর আগের মে মাসে ছিল ১২টি। এছাড়া জেলায় আহত হওয়ার ঘটনা মে মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৭ টিতে, যা এপ্রিলে ছিল তুলনামূলকভাবে কম ছিলো। মে মাসে কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা না ঘটলেও জুন মাসে ১ টি ছিনতাই হয়েছে। এছাড়াও, জুন মাসে জেলায় ৯টি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে, যা মে মাসে তুলনামূলক কম ছিলো। এছাড়াও, বৃদ্ধি পেয়েছে চোরাচালানও৷ জুন মাসে ৬ টি চোরাচালান ঘটলেও এর আগে মে মাসে ছিলো ৩টি। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, কুমিল্লায় জুন মাসে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির প্রবণতা ছিল বেশ দৃশ্যমান।

 

তবে আশার কথা হলো, কিছু অপরাধ প্রবণতায় জুন মাসে খানিকটা হ্রাস দেখা গেছে। জুন মাসে খুনের ঘটনা ৩ টি ঘটেছে৷ যা এর আগে মে মাসে ছিলো ৬ টি৷ নারী ও শিশু নির্যাতনের সংখ্যা ছিল ৪০টি, যা মে মাসে কমে ৩১টিতে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে চাঁদাবাজির ঘটনায়ও কিছুটা কমতি এসেছে—মে মাসে যেখানে ৩টি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছিল, জুন মাসে সেখানে তা কমে ১টিতে দাঁড়িয়েছে। মাদকদ্রব্য জব্দ হয়েছে ১৮৪ টি যা এর আগের মাসে ছিলো ১৮৬টি। দস্যুতা মে মাসের মতো এ মাসেও দুইটি ঘটেছে। চুরির ঘটনাও তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। এছাড়া, জুন মাসে ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটে নি।

 

এসময় সভায় নগরীর জলাবদ্ধতার উপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় সিটি কর্পোরেশন ও সড়ক জনপদ বিভাগের সমন্বয়হীনতার কথা উঠে আসে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে সিটি কর্পোরেশন বলছেন কোনো কোনো সড়কে দায়িত্ব সড়ক ও জনপদের। সড়ক ও জনপদ বলছেন বিপরীত কথা। তবে, জেলা প্রশাসক দুইটি দপ্তরকে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেন।

 

এসময়, সভায় উপস্থিত জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ তাদের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সড়কের বেহাল দশা, টমসমব্রীজ থেকে কোটবাড়ি রোডের সড়কের বেহাল দশা, ডেঙ্গু ঝুঁকিতে কুমিল্লার ছিন্নমূল মানুষেরা ও মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় নিয়ে ভোগান্তির বিষয়গুলো তুলে ধরেন তারা। এছাড়াও, সভায় উঠে আসে জেলায় মাদকের সরবরাহ বেড়ে যাওয়া, মহাসড়কে উলটো পথে যানবাহন চলা, চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার তথ্য। জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার আহবান জানান৷

 

পরে, সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, আমি জেলা পুলিশ সুপার নই, আমি জেলার নাগরিকদের পুলিশ সুপার। আমাকে সবাই সহযোগিতা করতে হবে৷ চাঁদাবাজির ঠাঁই কুমিল্লায় হবে না। আপনারা আমাকে তথ্য দিন। আপনারা এক পা এগিয়ে আসুন, আমরা দুই পা এগিয়ে যাবো। যারা মাদক খায় কিংবা বিক্রি করে তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে৷ যারা অপরাধী তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে। যারা মব সৃষ্টি করে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা রয়েছি। আপনারাও আমাদের পাশে থাকবেন।

 

সবশেষে, জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার বলেন, রাষ্ট্র সবকিছুর দায়িত্ব নিলে, সেটা সম্পন্ন করতে পারবে না। কিছু দায়িত্ব ব্যক্তিকেও নিতে হবে৷ এছাড়াও, শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর দায় দিয়ে বসে থাকলে, রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারবে না। সকল নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনার সামনে কেউ অন্যায় কাজ করলে সেটা আপনাকে প্রতিহত করতে হবে। অন্যায়কারীকে আটক করে রাখার ক্ষমতা প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। তাই জেলার প্রতিটি নাগরিককে আহবান করব নিজ অবস্থান থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

 

এসময় সভায় ১০ বিজিবির সিও লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মীর আলী এজাজ, জেলা পিপি কাইমুল হক রিংকু, মহানগর জামায়াতের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।