মারুফ মিয়া ও আব্দুর রহমান নিখোজের পরদিন মিলল লাশ

রংপুরে নিখোঁজের পরদিন বালুর গর্তে মিলল দুই শিশুর নিথর দেহ
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় একটি অবৈধ বালু উত্তোলন পয়েন্টের খনন করা গর্ত থেকে উদ্ধার করা হলো নিখোঁজ দুই শিশুর নিথর দেহ। নিখোঁজের পরদিন বুধবার দুপুরে পাইকান ডাঙ্গিপাড়া এলাকার একটি বালুর গর্তে পাওয়া যায় ৬ বছরের মারুফ মিয়া ও ৭ বছরের আব্দুর রহমানের মরদেহ। দুজনই নগরবন্দ বড়াইবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার সকালে একসঙ্গে খেলতে বের হয় তারা। তারপর থেকেই নিখোঁজ। দুপুরে স্থানীয়দের খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মারুফের মরদেহ মেলে আজহারুলের মালিকানাধীন বালুর পয়েন্টে। প্রত্যক্ষদর্শী আখতারুজ্জামান মুকুল বলেন, ‘আমি যখন বালুর গর্তে নামতে যাই, তখন মালিকের ভাগ্নে মনু মিয়া বাধা দেয়, গালিগালাজ করে। জোর করে নামার পর আমার হাতে একটি শিশুর হাত লাগে তখন বুঝি এটি মারুফ। তার বুকের সব হাড় ভাঙা ছিল, গলায় রশি ও একটি বোতল বাঁধা ছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার করে আব্দুর রহমানের মরদেহও।’ শিশু মারুফের মা রাশেদা বেগম শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘হামার ছাওয়াক মাইরা ফেলছে… আমরা তো কারো ক্ষতি করি নাই। ক্যান হামার কলিজার টুকরাডা মারলো? বিচার চাই।’স্থানীয়দের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, শিশু দুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গঙ্গাচড়া ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। একপর্যায়ে স্থানীয় মুকুল এক শিশুর মরদেহ খুঁজে পান, পরে ডুবুরি দল উদ্ধার করে আরেকটি। গঙ্গাচড়া থানার ওসি আল এমরান রাত ৮টার দিকে জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা সমাজের নৈতিক দায়। প্রতিটি শিশু যেন নির্ভয়ে খেলতে পারে, স্কুলে যেতে পারে-সেই নিশ্চয়তা দিতে না পারলে সভ্যতা, মানবতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।