কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাইয়ে “হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ”-এর উদ্যোগে এবং ফেস দ্যা পিপলের ব্যবস্থাপনায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ মানবকল্যাণমূলক কর্মসূচি দিনব্যাপী চলে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৭০ জন দুস্থ ও অসহায় নারীকে ইম্পোর্টেড সিঙ্গার এ-গ্রেড ফুলসেট সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়, যাতে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে নতুনভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। একইসঙ্গে সহস্রাধিক নিপিড়িত মানুষকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ফেস দ্যা পিপলের সম্পাদক সাইফুর রহমান সাগর, সমাজ সেবক হাজী মুস্তফা কামাল, বিএনপি নেতা শাহ আলমসহ হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটির নেতৃবৃন্দ।
সকাল ১০টায় ফ্রি মেডিকেলের কার্যক্রম শুরু করা হয়। ১২ জন চিকিৎসক প্রায় ৭ লাখ টাকার ওষুধ নিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া শুরু করেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নারী পুরুষ এবং শিশুদের মাঝে বিভিন্ন রোগের ওষুধ বিতরণ করা হয়।
এ বিষয়ে ফেস দ্যা পিপলের সম্পাদক সাইফুর রহমান সাগর বলেন, হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাঁজাসহ সারা বিশ্বে আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে লালমাই এলাকায় সহস্রাধিক নিপিড়িত অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭০ জন নারীকে পারিবারিক সচ্ছলতায় আনতে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। আমরা হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটির মানবিক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সংস্থার মহাপরিচালক মুহাম্মদ রাজ জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তারা কাজ করছেন। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিনা ভিজিটে এই সেবায় অংশ নেন। আজকের ক্যাম্পে ঢাকা মেডিকেল, সলিমুল্লাহ মেডিকেল, সিকদার মেডিকেল ও পিজি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উপস্থিত থেকে রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় রোকেয়া বেগম জানান, দীর্ঘদিনের অসুখের কারণে শহরে ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয়নি। আজ ফ্রিতে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ পেয়ে তিনি অত্যন্ত উপকৃত হয়েছেন। টিল্লাবাড়ির জামেনা বেগম বলেন, পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় তিনি চিকিৎসার সুযোগ পাননি, তবে এই উদ্যোগ তার জন্য বড় সহায়ক হয়েছে।
এছাড়া দিনমজুর মহিউদ্দিন জানান, তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসে ওষুধ পেয়েছেন, যা তার মতো বহু দরিদ্র পরিবারের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
অন্যদিকে, সেলাই মেশিন নিতে আসা উম্মে ফাতেহা ও স্বপ্না রানী জানান, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের হাতে মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এটি তাদেরকে আত্মনির্ভর হতে সহায়তা করবে।
হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটির সদস্যরা বলেন, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার প্রসার ঘটানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। সংস্থাটি বাংলাদেশে যেমন কার্যক্রম চালাচ্ছে, একইভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাতেও নিয়মিত ত্রাণ সহায়তা ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা দেশ-বিদেশের দানবীরদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
“ফেস দ্যা পিপল”-এর পরিচালক সাইফুর সাগরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শৃঙ্খলার সঙ্গে দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।