সদর দক্ষিণে বাড়ি থেকে ব্যবসায়ীকে টেনে হিঁচরে মারধরের অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পরানপুর গ্রামে আক্তারুজ্জামান নামের এক ব্যবসায়ীকে তার নিজ বাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় ওই ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। নির্যাতনকারী শাহজাহানগংরা সাবেক মন্ত্রী লোটাস কামালের অনুসারী বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীর নাম মোঃ আক্তারুজ্জামান (৪৩)। তিনি পরানপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বিষয়টি নিয়ে তিনি সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, মৃত আলী আকবরের ছেলে জসিম উদ্দিন (৪৪), ইউপি সদস্য শাহজাহান (৩৮), মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে রবিউল হোসেনসহ (২০) অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়। তারা সবাই দক্ষিণ ছনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে আক্তারুজ্জামানকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তারা সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং ঘটনা ঘটানোর কিছুদিন আগেও তাকে মারধরের হুমকি দেন। ঘটনার দিন ২০ আগস্ট ২০২৫, রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে আক্তারুজ্জামান তার বসতঘরে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে তার বাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করে এবং তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালাগালি শুরু করে। তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে জোরপূর্বক টেনে বের করে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন হত্যার উদ্দেশ্যে তার গলা চেপে ধরে এবং ২ ও ৩ নম্বর অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মেরে তার নাক-মুখ, বুক ও পিঠে গুরুতর জখম করে। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে তাকে ভবিষ্যতে খুন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
ভুক্তভোগী আক্তারুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত শাহজাহান মেম্বার ৪নং বারপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য এবং পতিত মন্ত্রী লোটাস কামালের ঘনিষ্ট সহচর ছিল। আওয়ামীলীগের পতনের পর এখন ভোল পাল্টে নব্য বিএনপি সাজার চেষ্টা করছে। এই শাহজাহান ও তার আত্মীয় স্বজন আওয়ামীলীগ আমলে আমাদের অত্যাচার নির্যাতন করছে এবং এখনো অব্যাহত রাখছে বিএনপির এক শ্রেণীর নেতাদের প্রশয়ে।
তিনি দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান মেম্বারকে একাধিকবার কল দিলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম জানান, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”