কুমিল্লায় আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্গাপূজাকে ঘিরে ভোটের মিশন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনীতি জমে উঠেছে। আওয়ামী লীগ বিহীন মাঠে সংখ্যালঘুদের ভোট লুফে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো। এতে পূজা শুরুর আগেই সনাতনীদের বাড়ি বাড়ি এবং মন্ডপগুলোতে ঘুরছে এসব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। স্থানীয়রা বলছে, আওয়ামী লীগ বিহীন সংখ্যালঘু ভোট যাবে কোন দিকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারত সীমান্তবর্তী কুমিল্লা জেলায় বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসবাস। নগরীতে বেশিরভাগ এলিট শ্রেণীর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বাস করেন। সচেতনতা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং রাজনীতিতেও তারা এগিয়ে। যেকোনো নির্বাচনে জেলার সংখ্যালঘুদের ভালো প্রভাব থাকে। এতে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সংখ্যালঘুদেরকে অনুকূলে আনার চেষ্টা করছে। এদিকে জেলাটিতে মন্ডপের সংখ্যাও বেশি। জেলায় এবার ৮০৫টি মন্ডপে পূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এরমধ্যে কুমিল্লা নগরী এবং শহরতলীতে মন্ডপের সংখ্যা ১৩১টি।
স্থানীয়দের দাবি, জেলার সংখ্যালঘু ভোট আগে আওয়ামী লীগের দিকেই বেশি ধাবিত ছিল। এবার আওয়ামী লীগ বিহীন মাঠে এসব ভোট লুফে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। পূজা শুরুর আগেই রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। খাদ্যশস্য, নগদ অর্থ, নতুন কাপড়সহ নানা উপহার সামগ্রী দিচ্ছেন। গত কয়েকদিন যাবত বিএনপির নেতারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহার পূজারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া, জামায়াত নেতৃবৃন্দও সনাতনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। সব মিলিয়ে এবারের দুর্গাপূজায় চলছে ভোটের মিশন।
কুমিল্লা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্যামল কৃষ্ণ সাহা বলেন, আমাদের আঙ্গীনায় যারা আসবে অতিথি হিসেবে সবাইকেই আমরা গ্রহণ করবো। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মন্ডপ পরিদর্শন এবং আমাদের নিরাপত্তার খোঁজ খবর নিচ্ছে। তাছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব সফল করতে আমরা তাদের পাশে আছি। আমরা দলীয়ভাবে সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে তাদের পাশে থাকব। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এবং সাবেক এমপি হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন বলেন, আমরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছা উপহার পূজারীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।
সাবেক কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে আমি নিজে যাব। নিজ হাতে পূজারীদের উপহার পৌঁছে দিব। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, সংখ্যালঘুরা আমাদের পবিত্র আমানত। আমরা তাদেরকে আমানত হিসেবেই রাখতে চাই। তাদের অধিকার অক্ষুন্ন রাখতে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। এবারের দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি আমরাও তাদের পাশে থাকবো।