সুপার ওভারের রোমাঞ্চে হারল বাংলাদেশ, সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ :

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

মিরপুরে যেন সিনেমার চিত্রনাট্য!

লো-স্কোরিং ম্যাচ, টানটান উত্তেজনা, শেষ বলে টাই, তারপর সুপার ওভারের রুদ্ধশ্বাস রোমাঞ্চ-সবশেষে জয়টা গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে।

লো-স্কোরিং ম্যাচ যে এতোটা উত্তেজনা ছড়াবে কে জানতো? দারুণ নাটকীয়তার পর সুপার ওভারের রোমাঞ্চে জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১১ রানের টার্গেটে নেমে ৯ রানে থেমে গেল বাংলাদেশ! ১ রানে জিতে সিরিজে সমতা ফেরাল উইন্ডিজ।

রুদ্ধশ্বাস এক লড়াই! যেখানে রোমাঞ্চের শেষ ছিল না। যদিও শেষ ওভারে এসে মনে হচ্ছিল জিততে যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজই। ৬ বলে চাই ৫ রান। ঠিক তখনই সাইফ হাসান বল হাতে রীতিমতো ম্যাজিক দেখালেন। ৫টা ডেলিভারিই দুর্দান্ত। আকিল হোসেন প্রথম দুই বল করলেন মিস। এরপরের দুই বলে রান হয় এক রান করে। শেষ দুই বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চাই ৩। ওভারের পঞ্চম বলে আকিল আউট হলে ১ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লাগত ৩ রান। শেষ বলে নতুন ব্যাটসম্যান খারি পিয়েরে ক্যাচ তুলে দিলে সেটা নিতে পারেননি নুরুল হাসান। দৌড়ে দুই রান নিয়ে ম্যাচ টাই!

সেই রোমাঞ্চ শেষে সুপার ওভার। যেখানে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মুস্তাফিজুর রহমান বল হাতে নিয়ে দেখালেন দাপট। দিলেন ১০ রান। এরপর জবাব দিতে নেমে আকিল হোসেনের ওভারে ৯ রানে থামল বাংলাদেশ! হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ল মিরাজের দল। সিরিজে এখন ১-১ সমতা!

ওয়ানডে ক্রিকেটে ছন্দে ছিল না বাংলাদেশ। কিছুদিন আগেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইট ওয়াশের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু মিরপুরে ফিরতেই সব পাল্টে গেল! এই মাঠ যে একান্ত নিজেদের! নিজেদের চেনা উইকেটে দাপট থাকল মেহেদী হাসান মিরাজদের। তবে প্রথম ম্যাচটা একেবারে অনায়াসে হেসে-খেলে জিতলেও, আজ কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে বোলারদের! শেষ অব্দি হরেই গেল তারা বাংলাদেশের। সুপার ওভারে এসে জয় হাতছাড়া।

এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলে ২১৩ রান। জবাব দিতে নেমে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ঠিক ২১৩ রানই করে ক্যারিবীয়রা।

এদিন পুঁজি বেশ বড় না হলেও স্পিন স্বর্গে শুরুতে দারুণ বল করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে টানছেন শেই হোপ। ৬৫ বলে পঞ্চাশ করার পথে চারটি চার মেরেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। শেষ অব্দি ৬৭ বলে ৬৩ রানে নটআউট। ৩৯ বলে দুই চারে ২৬ রান করেন জাস্টিন গ্রেভস। এর আগে ক্যাসি কার্টি ৫৯ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ৩৫ রান করেন।

এমনিতে মিরপুরের উইকেট যেন এখন এক রহস্যময় গোলকধাঁধা-যেখানে ব্যাটারদের জন্য প্রতিবারই নতুন পরীক্ষা! তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলে ২১৩ রান। ব্যাটারদের বিপর্যয়ের ভিড়ে শেষ দিকে রিশাদ হোসেনের ঝড়ো ইনিংস না থাকলে স্কোরবোর্ডে দুইশও দেখা যেত না। ম্যাচে পুরো ৫০ ওভার স্পিনারদের দিয়ে করিয়ে রেকর্ড গড়ল উইন্ডিজ!

দুপুরে প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে আগে ব্যাট করে ছোট পুঁজি নিয়েও জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তাই দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। পিচের চেহারা ছিল আগের মতোই-স্পিনারদের জন্য একেবারে আদর্শ। সে কারণেই একাদশে পরিবর্তন এনে পেসার তাসকিন আহমেদের জায়গায় দলে নেয়া হয় বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে। ফলে এক পেসার আর চার স্পিনার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ।

তবে রান তুলতে শুরু থেকেই বেগ পেতে হয় ব্যাটারদের। ওপেনার সাইফ হাসান ১৬ বলে ৬ রান করে বিদায় নেন দলের ২২ রানের মাথায়। অপর ওপেনার সৌম্য সরকার কিছুটা দৃঢ়তা দেখালেও পারলেন না বড় ইনিংস গড়তে। তাওহিদ হৃদয় (১৯ বলে ১২), নাজমুল হোসেন শান্ত (২১ বলে ১৫) এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৩৫ বলে ১৭) একে একে সাজঘরে ফেরেন। ফিফটির পথে এগিয়ে যাওয়া সৌম্যও ৮৯ বলে ৪৫ রান করে আউট হলে বড় সংগ্রহের আশা ফিকে হয়ে যায় বাংলাদেশের।

শেষ দিকে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ চেষ্টা করেন ইনিংস ধরে রাখতে। তাঁর ৫৮ বলে অপরাজিত ৩২ রানের পাশাপাশি কিছুটা স্থিতি এনে দেন নুরুল হাসান সোহান (২৪ বলে ২৩)। কিন্তু আসল রূপ দেখা যায় রিশাদ হোসেনের ব্যাটে। নবম উইকেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৪ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৯ রানের ঝড় তোলেন তিনি। তাঁর তাণ্ডবেই নির্ধারিত ওভারে দুইশ ছুঁয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণ পুরোপুরি ঘুরপাক খায় স্পিনের চারপাশে। ওয়ানডে ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ে ক‍্যারিবিয়ানরা পুরো ৫০ ওভারই স্পিনারদের দিয়ে বল করিয়েছে-যা এর আগে কোনো দল করতে পারেনি। পূর্বের রেকর্ডটি ছিল শ্রীলঙ্কার, যারা এক ইনিংসে ৪৪ ওভার করিয়েছিল স্পিনারদের দিয়ে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন গুডাকেশ মোটি, আর ২টি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন আকিল হোসেইন ও আলিক আথানাজে। স্পিন সহায়ক এই উইকেটে রান তোলা ছিল কষ্টসাধ্য, শেষের ঝড়ে নিজেদের লড়াইয়ে রাখার মতো পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

কিন্তু সেই পুঁজি নিয়েও খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। তারপর রুদ্ধশ্বাস নাটক! যেখানে জিতল উইন্ডিজ।

সিরিজের পরের ম্যাচ ২৩ অক্টোবর। যেখানে যারা জিতবে সিরিজ তাদেরই!