মানুষের সেবা করার মাধ্যমেই শান্তি খুঁজে পান আবদুল হালিম মজুমদার

কাজী আসফিন।।
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

আবদুল হালিম মজুমদার, পেশায় তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী হলেও তার পরিচয়ের সবচেয়ে বড় দিক তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই মানুষের পাশে থাকার অদম্য ইচ্ছা তাকে করে তুলেছে কুমিল্লার অন্যতম দানশীল ও মানবিক মানুষদের একজন। ৩ ভাই ও ৬ বোনের মধ্যে ষষ্ঠ সন্তান হালিম মজুমদার তার এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কুমিল্লা-লাকসাম মহাসড়কের পাশে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি ওয়ার হাউস, যেখানে শতাধিক মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। তবে তার সমাজসেবার ক্ষেত্র শুধু কর্মসংস্থানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষা, ধর্ম, স্বাস্থ্যসহ জীবনের নানা ক্ষেত্রেই তার অবদান অনস্বীকার্য।
সদর দক্ষিণ উপজেলার চাঁদপুর, রামপুর, যাত্রাপুর, শিকারপুর, আলেকদিয়া, বিজয়পুর, হোসেনপুর, লালমতি, নোয়াপাড়া ও বামিশা গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় তিনি নিয়মিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া পরিবারের জন্য নিজের অর্থায়নে ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন ঘর নির্মাণ করেছেন তিনি। দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রীরা যেন কাজ করে আত্মনির্ভর হতে পারে, সেজন্য উপহার দিয়েছেন সেলাই মেশিন। শীতের সময় কম্বল বিতরণ ও করোনা মহামারিতে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন মানবতার সেবা তার জীবনের মূল প্রতিশ্রুতি।
এছাড়াও, আবদুল হালিম মজুমদারের বিশেষ অবদান রয়েছে জেলার বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে। তিনি অনুদান দিয়েছেন সদর দক্ষিণের চাঁদপুর জনতা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিজয়পুর মহিলা কলেজ, বাগানবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ লাকসামের মুক্ত বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লালমাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কুমিল্লা রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অবহেলিত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নয়নমূলক কাজ করে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করেছেন। কুমিল্লার রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যখন বর্ষাকালে ময়লা পানি উঠে পড়ত, তখন তিনি নিজ উদ্যোগে সেই স্কুলের সংস্কার কাজ শুরু করেন। এখন শিক্ষার্থীরা সেখানকার শ্রেণিকক্ষে নির্বিঘ্নে পাঠ নিতে পারছে।
তিনি এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি মসজিদ নির্মাণে ও ১০০টির অধিক মাদ্রাসার উন্নয়নে অনুদান দিয়েছেন। অনেক ঈদগাহ, কবরস্থান ও মসজিদের জন্য নিজ খরচে জমি ক্রয় করে দিয়েছেন। এমনকি কুমিল্লার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যতম অবহেলিত জেলা কুড়িগ্রামেও তিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন যা তার উদারতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের উজ্জ্বল উদাহরণ। আবদুল হালিম জানান, মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তার কাজের প্রেরণা। নিজের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা ছিল। মানুষের সেবার মধ্য দিয়েই প্রকৃত সুখ খুঁজে পাই। আমরা প্রত্যেকে যদি একে অপরের পাশে দাঁড়াই, তাহলে কোনো মানুষ বঞ্চিত থাকবে না।
এদিকে, পরিবারেও তিনি এই মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার ছেলে অয়ন মজুমদারও সমাজসেবায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ ইয়ংস্টার সোশ্যাল অর্গানাইজেশন এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনটি এখন বাংলাদেশের ২৪টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সমাজসেবা যে কেবল দান নয়, বরং দায়িত্ব ও ভালোবাসার প্রকাশ তার জীবন্ত প্রমাণ আব্দুল হালিম মজুমদার। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের জন্য কাজ করাই জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা। আর সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন মানুষের কল্যাণে, সমাজের উন্নয়নে। সমাজের প্রতিটি স্তরে আব্দুল হালিমের মতো এমন দানশীল মানবিক মানুষদের পদচারণা বাড়ুক এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।