জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সার গুদামের দায়িত্বরত উপ-সহকারী পরিচালক খন্দকার মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে গুদামে দায়িত্বরত শ্রমিকরা একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন। মিছিলটি সার গুদামের সামনে থেকে শুরু হয়ে শিমুলতলা এলাকায় ঘুরে পুনরায় গুদামের সামনে এসে শেষ হয়।
সার গুদামের সর্দার শ্রমিক মুখলেছ, শ্রমিক মোহাম্মদ মন্নান ও রহিম মিয়া অভিযোগ করেন, কর্মকর্তা খন্দকার আশরাফুল আলম নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রকার অর্থ গ্রহণ করেন।
তাদের অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—প্রতি মেমো/ডিও কর্তনের জন্য দুই থেকে তিনশত টাকা, টিএসপি প্রতি বস্তা একশ থেকে একশত বিশ টাকা, ডিএপি চায়না ষাট টাকা, এমওপি কানাডা ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা, অতিরিক্ত লোক নিয়োগের জন্য প্রধান লরি থেকে অর্থ গ্রহণ। এছাড়া পচা সার জোরপূর্বক শ্রমিকদের দিয়ে ডিলারদের কাছে সরবরাহের অভিযোগও ওঠে।
শ্রমিকরা আরও জানান, কর্মকর্তা নিয়মিত তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন, ঘুষ গ্রহণে বাধ্য করেন এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ঠিকমতো দেন না। তারা দাবি করেন, এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার পদত্যাগ ও শাস্তিমূলক তদন্ত করা হোক।
অন্যদিকে, অভিযোগের জবাবে মেলান্দহ (বিএডিসি) এর উপ-সহকারী পরিচালক (সার) খন্দকার মো. আশরাফুল আলম বলেন, শ্রমিকদের সাথে দ্বন্দ্ব নেই। এখানকার একজন আমাদের কাছে চাঁদা চেয়েছিল চাঁদা দেয়নি বলে সে শ্রমিকদের উস্কে দিয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে তিনি নাম বলেননি। তিনি আরও বলেন, সার কখনই পচা হয় না। ভালো সার আমরা দিয়ে থাকি। এখানে বাড়তি টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ বিষয়ে মেলান্দহ (বিএডিসি) এর সহকারী পরিচালক মো. শওকত আলী জানান, শেষ দিকের সারগুলো একটু ধলা আকারের দেখা যায়। ভাঙতে কষ্ট হয়, কেউ নিতে চায় না। তবে সার পচা না। আশারাফুল এখানে বাড়তি কোনো টাকা নেয় না। শ্রমিকরা আমার কাছে বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন। আমি বলেছি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু এর আগেই তারা বিক্ষোভ করছে।