টিকটক ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া, রাতে তরুণীর আত্মহত্যা

স্বামীর বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগ
সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ।।
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর সূর্যনগর এলাকায় টিকটক ভিডিও নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সুমাইয়া আক্তার মিম (১৮) নামের এক তরুণী। বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামী মো. আল আমিন সবুজের (২৫) বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় এজাহার করেছেন তরুণীর বাবা মো. এরশাদ মিয়া।
ঘটনাটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১০ মিনিট থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে ঘটেছে বলে পরিবারের দাবি। জানা যায়, বিয়ে হয়েছিল প্রেম করে, এরপরই শুরু কলহ। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মুন্সীরপুর গ্রামের মেরিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ডিএসআর পদে কর্মরত এরশাদ মিয়ার তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছিলেন সুমাইয়া আক্তার মিম। প্রায় ১০ মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে মিমের বিয়ে হয় কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর সূর্যনগরের আল আমিন সবুজের সঙ্গে।
বাবার অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে সবুজ তাঁর মেয়েকে অপমান ও অবহেলা করতেন। ‘তুই ফাঁসি দিয়ে মর’ঝগড়ার সময় এমন কথাই নাকি বলেছিলেন স্বামী।
আরও জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিম টিকটকে একটি ভিডিও পোস্ট করলে সবুজ ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করেন। একপর্যায়ে সবুজ মিমকে অপমানজনক কথাবার্তা বলেন এবং বলেন, তুই ফাঁসি দিয়ে মর, তুই মরে গেলে আমার কিছুই যায় আসে না। পরে সবুজ ঘুমিয়ে পড়েন। এই অপমানের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মিম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে দাবি পরিবারের। সকালে স্বামীর দেখা না পেয়ে পাশের কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা
সবুজ সকালে ঘুম থেকে উঠে মিমকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে পাশের কক্ষে গিয়ে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি ফোনে জানানো হয় মিমের খালা ও বাবা-মাকে। খবর পেয়ে পরিবার নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লায় এসে মেয়ের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মিমের লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মিমের বাবা এরশাদ মিয়া দাবি করে বলেন, স্বামীর অপমান, নির্যাতনসুলভ আচরণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণেই তাঁর মেয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মো. সেলিম বলেন, মেয়ের স্বামীকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।