ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের আমতলীতে রাস্তার সংস্কার কাজে ধীরগতির কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। মাত্র দেড় কিলোমিটার এলাকায় সংস্কার কাজে দুই দফায় সময় বাড়িয়েও কাজ চলছে ধীর গতিতে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় জনগণ ও নিয়মিত যাত্রীদের মাঝে নানা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের আমতলী অংশের বড় একটি অংশে খানাখন্দ সৃষ্টি হলে এতে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। রাস্তার জরাজীর্ণ অবস্থা বিবেচনায় প্রায় বিশ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘হক এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে প্রথম ধাপে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি। পরে সময় বাড়িয়ে দ্বিতীয় ধাপে কাজ শুরু হলেও আশানুরূপ অগ্রগতি নেই কাজের বরং বাড়ছে যানজট আর ভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে যান চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে গাড়ির চাপ। বিকেল থেকে শুরু হয় তীব্র যানজট, যা সন্ধ্যা ও রাতে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা লাইনে রূপ নেয়। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঢাকা অভিমুখী যাত্রীদের। পাশাপাশি কুমিল্লার আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি চান্দিনা, হোমনা, তিতাস, দাউদকান্দি, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একমাত্র প্রধান এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত সময়। কুমিল্লা–কোম্পানিগঞ্জ সড়কের বাসচালক সালমান বলেন, রাস্তা খারাপ হওয়ায় সংস্কার করা হচ্ছে এটা ঠিক আছে। কিন্তু সংস্কারের নামে যে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হবে তা বুঝতে পারিনি। যাত্রীরা একবার-দু’বার জ্যামে পড়ে; কিন্তু আমরা তো প্রতিদিন এই যানজটে পড়ছি। খুবই বিরক্ত লাগছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে আমাদের যানজটের হাত থেকে মুক্তি দেওয়া।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রাকচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, আজকে একটু আগেই চলে আসায় জ্যাম কম পেয়েছি। কিন্তু রাত হলে যেই পরিমাণ জ্যাম বাড়ে, মনে হয় সামনে কোনো দুর্ঘটনা হয়েছে। অথচ মাত্র দেড় কিলোমিটার রাস্তায় কাজ করতে এত সময় লাগছে যে, উপকারের বদলে এখন ক্ষতিই হচ্ছে বেশি। আমরা চাই দ্রুত সমাধান।
আমতলী বিশ্বরোড এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, শুনেছি ঠিকাদারের কাজের মেয়াদ একবার শেষ হয়ে গেছে। পরে আবার সময় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বারবার সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হচ্ছে না। প্রতিদিন আমতলী বিশ্বরোড এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। এখানে আসার পর যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে যায়।
কুমিল্লা ময়নামতি হাইওয়ে থানার ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, বিশ্বরোড-আমতলী-ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মহাসড়কের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। এজন্য চালকরা ধীরগতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোগান্তি কিছুটা থাকবেই। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম খান বলেন, দেড় কিলোমিটার সংস্কার কাজের জন্য মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টাই পুলিশ মোতায়েন থেকে যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা কুমিল্লার জমিনকে বলেন, আমরা দ্রুতগতিতে কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে বারবার বলেছি। মহাসড়কে গাড়ির চাপ খুব বেশি, তবে আশা করছি জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবে।