কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায়  রেলক্রসিংয়ের দুই কর্মীকে আসামি করে মামলা    

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

ঈদের দিন শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেন। এতে প্রাণ হারান ৭ জন পুরুষ, ২ নারী, ৩ শিশুসহ ১২ জন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন অন্তত ১০ জন। হতাহত ব্যক্তিরা ছিলেন বাসের যাত্রী।

ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেটম্যানের দায়িত্বহীনতায় এ ঘটনা ঘটেছে। ওই ক্রসিংয়ে দায়িত্বরত দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তিনটি তদন্ত কমিটি।

মামলার প্রধান আসামি মো. হেলাল (৪১) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পদুয়া বাজারের রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে থাকা রেলগেট নম্বর ই/৪৭-এর অস্থায়ী গেটম্যান হিসেবে কর্মরত। অন্য আসামি মেহেদী হাসান (৩৩) বুড়িচং উপজেলার বাহিরীপাড়া এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি ওই লেভেল ক্রসিংয়ে ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত।

এ বিষয়ে জানতে আজ দুপুরে মো. হেলাল ও মেহেদী হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে তাঁরা আত্মগোপনে আছেন।

বাদী শেফালী আক্তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, নিহত সোহেল রানা তাঁর বোনের ছেলে। তিনি মালয়েশিয়াপ্রবাসী। গত ১৫ রমজানে প্রবাস থেকে বাংলাদেশে ছুটিতে আসেন। ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটের দিকে ঝিনাইদহের খালিশপুর বাস কাউন্টার থেকে মামুন স্পেশাল পরিবহনের বাসে করে সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী–সন্তান লাকসামে বেড়াতে রওনা দেন। শনিবার রাত তিনটার একটু আগে বাসটি পদুয়া বাজার রেলক্রসিংয়ে আসে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ওয়ান আপ ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে ধাক্কা লাগার কারণে বাসটি ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে যায়। এ সময় ইঞ্জিনের মুখে করে বাসটি টেনেহিঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার নিয়ে যায় ট্রেনটি।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংকে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ওই লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হেলাল ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তাঁরা পলাতক। তাঁদের ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ। পুলিশও ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।