যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রায় চার সপ্তাহের সংঘাত বন্ধে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘অতিমাত্রায় আগ্রহী’। তবে এর বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, কিন্তু সংঘাত কমাতে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা নেই।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ডট কম-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, ‘আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় স্বর্ণের দাম মূলত আলোচনার অগ্রগতি সংক্রান্ত খবরের ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী সপ্তাহের শুরুতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, বিশেষ করে যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান শুরু করে কিনা তা পরিষ্কার হয়।’
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, তেহরান যদি ‘সামরিকভাবে পরাজিত’ হয়েছে—এই অবস্থান মেনে না নেয়, তাহলে ইরানের ওপর আরও কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এদিকে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনকারী গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে। যদিও মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধিতে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে, কিন্তু উচ্চ সুদের হার এই চাহিদাকে কমিয়ে দেয়।
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছরে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে বাজার অন্তত দুইবার সুদ কমানোর প্রত্যাশা করছিল।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট রূপার দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১,৮৯৩ দশমিক ৬০ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ২ শতাংশ কমে ১,৩৯৪ দশমিক ৮৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে।