ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন – হোয়াট এবাউট আমার দেশে ফেরা? অনুমতি আছে নাকি নেই?’ 

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

শুক্রবার (২৭ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন লেখেন, ‘বাংলাদেশের লোকেরা ব্যস্ত মোস্তফা ফারুকীর দেশত্যাগে অনুমতি না থাকা নিয়ে। হোয়াট এবাউট আমার দেশে ফেরা? অনুমতি আছে নাকি নেই?’

একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সূত্র ধরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আদেশের একটি অংশে ফারুকীসহ অভিযুক্তদের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা উল্লেখ রয়েছে।

যদিও এই নথির সত্যতা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি এবং সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

দেশজুড়ে যখন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির দেশের বাইরে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হওয়া নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই তসলিমা নাসরিন গত তিন দশক ধরে তার নিজের দেশে ফিরতে না পারার প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিলেন। তসলিমার এই আকুতি নতুন নয়; ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন।

তসলিমা নাসরিনের নির্বাসনের প্রেক্ষাপট দীর্ঘদিনের। ১৯৯৪ সালের মে মাসে কলকাতার ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধর্মীয় আইন ও কুরআন সংশ্লিষ্ট কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৎকালীন সময়ে ইসলামপন্থীরা তার ফাঁসির দাবিতে রাজপথে নামে এবং তাকে ‘সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালাল’ হিসেবে অভিহিত করে। এমনকি সিলেটে এক সমাবেশে তার মাথার দামও ঘোষণা করা হয়েছিল।

তৎকালীন সরকার জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তসলিমার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। দীর্ঘ দুই মাস আত্মগোপনে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিন পেয়ে ১৯৯৪ সালের আগস্ট মাসে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।