জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারিকে হিটলারের প্রশংসা করায় অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

আলোচিত ও জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারিকে অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অ্যাডলফ হিটলারের প্রশংসা করায় তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তাকে সেখান থেকে বের করে দেয়ার প্রস্তুতি চলছিল। তিনি অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন তার ইসলামি বক্তব্য দিতে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। তিনি ইহুদি বিদ্বেষী বক্তব্য দিতে গিয়ে হিটলারকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে শাস্তি হিসেবে তার প্রশংসা করেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান আজহারির সামাজিক মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি অনুসারী আছেন। তিনি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রবাসী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশি এই বক্তা ইস্টার উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় ‘লিগেসি অব ফেইথ’ শিরোনামের একটি বক্তৃতা বিষয়ক সফরে ছিলেন। সেখানে ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরায় তার কর্মসূচি ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে তাকে বৃটেনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশেও ঘৃণামূলক বক্তব্যের অভিযোগে জনসমক্ষে বক্তব্য দেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় তার আগমনের বিষয়ে বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপ সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছিল। তিনি সিনেটে বলেন,
আমিসহ অনেক সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীও বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকেও এ বিষয়ে বার্তা পেয়েছিলেন।
রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেয়া এক বক্তব্যে আজহারি ইহুদিবিরোধী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেন। হলোকাস্টকে প্রশংসা করেন এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীকে অমানবিকভাবে উপস্থাপন করেন বলে অভিযোগ করা হয় রিপোর্টে। তিনি হিটলারকে ‘ইহুদিদের জন্য ঈশ্বরের শাস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন ‘ইহুদিরাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ এবং তাদেরকে ‘বিষাক্ত দাগ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও দাবি করেন, ইহুদিরাই এইডসসহ বিশ্বের নানা সমস্যার জন্য দায়ী এবং তারাই এই রোগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি তার বক্তৃতায় হিটলারের নিষ্ঠুরতা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। সিনেটর ডুনিয়াম বলেন, এমন একজন ব্যক্তিকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়’। তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বর্ণবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত এবং দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।’
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২১ সালে বৃটেনে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। কারণ তিনি হিন্দুবিরোধী বক্তব্য ছড়াচ্ছিলেন বলে আশঙ্কা ছিল। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারও তার বিরুদ্ধে উগ্রবাদ ও জনশৃঙ্খলার হুমকির অভিযোগ এনেছিল এবং তার কার্যক্রম নজরদারির নির্দেশ দিয়েছিল। ডুনিয়ামের মতে, আজহারির বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী নয়, বরং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্যের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্কের কাছে চিঠি দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানায়। সংস্থাটি সতর্ক করে যে, আজহারির বক্তব্য ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং উগ্রবাদী বক্তব্যকে বৈধতা দিতে পারে। তারা তার অতীত বক্তব্যের বিস্তৃত নথি তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে ইহুদিবিরোধী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, সহিংসতার প্রশংসা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য।