মানবাধিকার কর্মী শুভ্রের অভিযোগে কুমিল্লায় সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২০ ঘন্টা আগে

কুমিল্লায় অপহরণ, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জালজালিয়াতি, হত্যাচেষ্টা, মানহানি ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পেশাজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র এসব অভিযোগ এনে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় এফআইআর এবং আদালতে পৃথক সিআর মামলা দায়ের করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার পরিচয় ও ছদ্মবেশ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। চক্রটির সদস্যরা নিজেদের প্রভাবশালী পরিচয় কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোসহ মানহানিকর কর্মকাণ্ডেও জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা এফআইআর বা জিআর মামলা নম্বর ৪১(৮৫০)২৪, তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২৪ এ চক্রের সদস্য ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং ধারাবাহিকভাবে নানা অপরাধ সংঘটিত করছে। পরবর্তীতে একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ১ এ আরও একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর ৬১৫২৬, তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২৬। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রেকর্ডভুক্ত করেছেন বলে জানা গেছে। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩৮৫, ৩৬৫, ৪২০, ৫০০, ৩৭৯, ৫০৬(২) এবং ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ধারায় অবৈধ সমাবেশ, মারধর, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, প্রতারণা, মানহানি, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ সংঘটনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত চক্রটি তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মানহানি ও ক্ষতি সাধন করেছে, যা তার পেশাগত সুনাম, ব্যবসায়িক লাইসেন্স এবং সামাজিক অবস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই ক্ষতির বিষয়টিও আদালতের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা শুধু আর্থিক প্রতারণাই নয়, বরং সামাজিক বিভ্রান্তি ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে “শুভ্র সনাতনী” নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। শুভ্রের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি পেশাদার দালাল, চাঁদাবাজ ও অপহরণকারী হিসেবে পরিচিত এবং তারা সংঘবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে, যারা বিভিন্ন সময় এসব অপরাধে সহায়তা করছে। এদিকে, মামলাগুলো দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল।