নগরীতে ভুল চিকিৎসায় ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২১ ঘন্টা আগে

কুমিল্লা নগরীতে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে আক্তার হোসেন পারভেজ (৪২) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিকেলে নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘কুমিল্লা হিউম্যান ডায়গনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতাল’-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসাকে দায়ী করে বিচার দাবি করেছেন নিহতের পরিবার।

 

নিহত আক্তার হোসেন পারভেজ কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের পোহনকুচা এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কনস্ট্রাকশন ব্যবসায়ী ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পেটব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কুমিল্লা নগরীর ওই হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অরূপ কুমার রায়ের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

 

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা অনুভব করলে পারভেজকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. অরূপ কুমার রায় উপস্থিত না থাকায় ডিউটি মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইকবাল হোসেন তাকে দেখেন। পরিবারের অভিযোগ, কোনো ধরনের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা রক্তচাপ পরীক্ষা ছাড়াই পারভেজকে একটি অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইনজেকশনটির অর্ধেক শরীরে প্রবেশ করার পরপরই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

 

নিহতের স্ত্রী নাহিদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী নিজে হেঁটে হাসপাতালে গিয়েছিল। আমরা বলেছিলাম বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে যেন ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু তারা আশ্বস্ত করে বলে কিছু হবে না। প্রেশার পর্যন্ত না মেপেই ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার পরই আমার স্বামীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তাদের গাফিলতির কারণেই আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। আমি এর বিচার চাই।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, রোগী ও তার পরিবার জানিয়েছিল আগেও একই ধরনের ব্যথা হলে এই ইনজেকশন দিলে উপকার পেয়েছেন। পরে আমি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরূপ কুমার রায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ইনজেকশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। রোগী কোনো পরীক্ষা করাতে রাজি ছিলেন না। ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার অবস্থার অবনতি হয়। আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল না।

 

হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আকাশও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, রোগীর পরিবার আগের প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ওই ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলেছিল। রোগী পরীক্ষা করাতে না চাইলে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

 

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মো. বশির আহম্মেদ বলেন, নিহতের পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।