‘আমরা ন্যায্যতা ও নিরাপত্তা চাই’

সুরাইয়া আক্তার
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

 

‘নারী’ একটা শব্দে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন সম্পর্কের মর্যাদা ও গুরুত্ব। স্বর্গ ও মর্ত্য অপূর্ণ থাকতো যদি নারীকে সৃষ্টি করা না হতো। আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) নিঃসঙ্গতায় দরুন স্বর্গকে স্বর্গ অনুভব করতে পারেননি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ হাওয়া (আঃ)কে সৃষ্টি করেন। সৃষ্টি লগ্ন হতে মহীয়সী নারীদের গর্ভ থেকেই অসংখ্য নবী-রাসুল ও আল্লাহর মনোনীত বান্দাগণের পৃথিবীতে আগমন ঘটেছে।নারীদের আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা অপর্যাপ্ত সম্মান দিয়েছেন। নারীদের সম্মান ও অধিকার বিষয়ে বহুবার কোরআনে আলোকপাত করা হয়েছে। নারীদের জন্য একটি সূরা (আন- নিসা) নাযিল করা হয়েছে। স্বয়ং আল্লাহ এরশাদ করেন “আর যে কেউ সৎ কর্ম করে সে পুরুষ হোক বা নারী এবং সে মুমিন হয় তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হবে না ” (সূরা- নিসা আয়াত:১২৪)। একইভাবে বিশ্বের সকল সম্প্রদায় ধর্মে, বর্ণে নারীদের প্রতি মর্যাদার কথা উল্লেখ আছে। “মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু ও সাহায্যকারী। ” (সূরা আত-তাওবা আয়াত: ৭১)। বাস্তবে এই আয়াতের বৈপরীত্য দেখতে পাই। নারীর সর্বোচ্চ সম্মান ও নিরাপত্তার আশ্রয়স্থল হচ্ছে পুরুষ। কথিত আছে, রক্ষকই ভক্ষক হয়। বর্তমান বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে পৈশাচিক চিত্র প্রতিনিয়ত চিহ্নিত হচ্ছে। বাচ্চা শিশু বিশেষত মেয়ে শিশুর প্রতি নারকীয় নির্মম হত্যাকাণ্ড চলছে । এই অমানবিকতা মহামারীর মতো দেশের প্রতিটি গ্রাম, জেলা ও শহরে ছড়িয়ে পড়ছে। লোলুপ- দৃষ্টি কোমলমতি শিশুদের স্তম্বিত করছে। অথচ এই প্রাণবন্ত শিশুদের জন্য আমাদের জীবন সার্থক ও আনন্দময় হয়। কিন্তু বিকৃত মস্তিষ্কের পুরুষরা এই অবুঝ শিশুদের মাঝে কোন ধরনের আনন্দ খুঁজে পায় ? এটা কি শুধু নিকৃষ্টদের যৌন খায়েশ মেটানো!? এমনও ঘটনা আমরা দেখতে পাই নিজ ঘরে মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যা থাকা সত্ত্বেও তারা বিবেকবর্জিত ঘৃণ্য কাজ অবাধে করে বেড়াচ্ছে ।তাদের প্রধান উদ্দেশ্য প্রবৃত্তির খায়েশ মেটানোর সাথে নিষ্পাপ মানুষদের হত্যাকাণ্ডের মাঝে পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করা। তা নাহলে বৈধ পন্থায় বা অন্য উপায়ে চাহিদা মেটানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন অবুঝ শিশুদের প্রতি লালসা দৃষ্টি পড়বে !? এটা মূলত বিকারগ্রস্ত মস্তিষ্কের পরিচয় । সমাজ তথা রাষ্ট্র থেকে এইসব অসুস্থ মস্তিষ্কের নরপিশাচকে উৎখাত করা সময়ের দাবি । অত্যন্ত দুঃখের সাথে লিখতে হচ্ছে এই যুগ অতি আধুনিক হলেও জাহিলিয়াতের প্রতিচ্ছবি। তিনি (হযরত মুহাম্মদ (সা.)আবারো মানবজাতির তথা অত্যাচারিত ও নির্যাতিত নারীদের মুক্তির আহ্বায়ক হয়ে ফিরে আসবেন না তিনি রেখে গেছেন মহামূল্যবান কোরআন ও হাদিস। এই যে এত বিশৃঙ্খলা হত্যাকান্ড সংগঠিত হচ্ছে তার জন্য দায়ী (১)কুরআনী শাসন না থাকা,(যেমন-জনসমক্ষে পাথর নিক্ষেপ করা অথবা ফাঁসি কার্যকর করা বা গর্দান নেওয়া এতে জঘন্য কাজ করার আগে তারা দশবার ভাবতে বাধ্য হয়, (২)সরকারের কর্ণপাতহীন দৃষ্টিভঙ্গি, (৩)প্রশাসনিক দুর্বলতা, (৪) আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না থাকা, (৫)রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, (৬)অপরাধীর যথাযথ শাস্তি না হওয়া, যদি দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন করতো তাহলে নরপিশাচের দল সংযত হতো, (৭)বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা,(৮) সর্বোপরি বলতে হয় জনগণের অজ্ঞতা ও ঐক্যবদ্ধহীনতা। কেননা একটি শিক্ষিত ও সচেতন জাতি পরবর্তী প্রজন্মকে দিতে পারে নিরাপদ ও বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবী। এসব ঘটনায় জনগণ নিউজফিডে সমবেদনা না দেখিয়ে ধর্ষণ ও নানা অপরাধের বিরুদ্ধে সমসংগ্রামে রাজপথে নেমে আসা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু রাষ্ট্রই এ বিষয়ে বেখেয়াল। বাংলাদেশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী

সর্বোচ্চ শাস্তি :যদি কোন ব্যক্তি ধর্ষণ করে বা ধর্ষণের পর ওই নারী বা শিশুকে হত্যা করে তবে সেই অপরাধী শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। অর্থদণ্ড :২০২৫ সালের সংশোধন অনুযায়ী, অর্থদণ্ডের পরিমাণ অনধিক ২০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে । সংশোধিত আইন অনুযায়ী ধর্ষণের বিচার মৃত্যুদণ্ড সেখানে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা করার অপরাধে আসামি কিভাবে নির্বিঘ্নে জামিন পায়। আইন সবার জন্য সমান এবং যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিকার থাকে একজন আইনজীবী সহায়তায় জামিন পাওয়ার। কিন্তু যেখানে অভিযোগের প্রমাণ স্পষ্ট সেখানে আসামি বিনাবাঁধায় রেহাই পাওয়াটা কি আইন, বিচার ব্যবস্থা ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে অবমাননা করা নয় !?

লেখকঃ শিক্ষার্থী, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়