চর দখল সংঘর্ষের ৭ দিন পরও গ্রামছাড়া শতাধিক পরিবার

জুয়েল রানা, তিতাস ।।
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের নতুন বাটেরারচর এলাকায় চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে নতুন বাটেরারচর গ্রামের শতাধিক পরিবার এখনও গ্রামছাড়া অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের পর অন্তত ৮০টি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে নতুন বাটেরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন করে গ্রামের নারী-পুরুষ এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শতাধিক পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রুবেলের স্ত্রী শাহরা খাতুন, শাহ আলমের স্ত্রী মরিয়ম, মৃত লায়েছ মিয়ার স্ত্রী রেহেনা খাতুন, ময়নাসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, সংঘর্ষের পর পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার আলীপুর ও চর বিনোদপুর এলাকার একদল লোক সংঘবদ্ধভাবে নতুন বাটেরারচর গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ৮০টি ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। ঘর থেকে আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা বলেন, হামলার পর থেকে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বাড়িছাড়া অবস্থায় অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটছে। তারা দ্রুত প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদে নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক বলেন, “ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে ভাঙচুরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চর দখলকে কেন্দ্র করে তিতাস উপজেলার নতুন বাটেরারচর এবং মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৬ জুলাই বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ শুরু হয়। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।
সংঘর্ষের সময় মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কুহিনুর আক্তার (৩৮) গলায় টেঁটার আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলা, ভাঙচুর ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে নতুন বাটেরারচর গ্রামের শতাধিক পরিবার গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়।
এ ঘটনায় গত ২৯ জুলাই রাতে নিহত কুহিনুর আক্তারের স্বামী মো. কাবিল মিয়া বাদী হয়ে মেঘনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।