বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় কোতয়ালী মডেল থানাধীন ৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বারপাড়া-কৃষ্ণপুর এলাকায় ময়নামতি মেডিকেল কলেজের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সমাজ সেবক হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক তাপস চন্দ্র রায়।
সমাবেশে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সচেতন এলাকাবাসী অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা, এর ক্ষতিকর সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ময়নামতি মেডিকেল কলেজের সামনে থেকে একটি মাদকবিরোধী র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন।
এদিকে একই দিনে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের মাদকবিরোধী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হলে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ৩ জন আসামিকে ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, ৩ জনকে ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড, ৩ জনকে ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং ৬ জনকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
পুলিশের এমন দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা এবং অপরাধের পর সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান ও সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।