বিদ্যালয় নির্মাণকাজের পাথর বিক্রি করে দিলেন কৃষকদল নেতা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজের জন্য রাখা প্রায় ১১০০ সিএফটি পাথর বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার ধুম ইউনিয়নের গোলকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় গোলকেরহাট সরকারি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের জন্য ২০২১ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারটি বাতিল করা হয়। এরপর থেকে নির্মাণকাজের জন্য আনা প্রায় ১১০০ সিএফটি পাথর বিদ্যালয় মাঠে পড়ে ছিল।

কয়েকদিন আগে উপজেলা কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন মিলে ওই পাথরগুলো অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের নজরে আনে স্থানীয়রা। পরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ঘটনাটি মিরসরাই উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) অবহিত করা হয়।

ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রঞ্জন কুমার মধক বলেন, গোলকেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ শুরুর জন্য পাথরগুলো আনা হয়েছিল। বিভিন্ন কারণে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে টেন্ডার বাতিল হওয়ায় পাথরগুলো আর সরানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে আবারো বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণকাজ পায় ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন। প্রায় দুই মাস আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক অনুমতিপত্র পায়। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই নির্মাণকাজ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। এরই মধ্যে পাথরগুলো সরিয়ে ফেলার বিষয়টি আমরা এলজিইডিকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে পাথর সরানোর অভিযোগ সত্য নয়। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

মিরসরাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সাফায়াত ফারুক চৌধুরী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার পাথর চুরির বিষয়ে একটি অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। আমি তাকে থানায় গিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, স্কুল ভবন নির্মাণ কাজ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। সেই দরপত্রে আবারো কাজটি ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন পায়। তবে আমাদের দপ্তরে এখনো ওয়ার্ক অর্ডার আসেনি।