ফরিদপুরে এনসিপির বহিষ্কৃত নেতার অবৈধ ওষুধ তৈরির কারখানায় আবার অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

ফরিদপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত নেতা বায়েজিদ হোসেনের (শাহেদ) একটি অবৈধ ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শহরের গোয়ালচামট মহল্লার ১ নম্বর সড়ক এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় অভিযান চালায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও জেলা প্রশাসন।

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের গোয়ালচামট মহল্লার মোল্লাবাড়ি সড়ক এলাকায় বায়েজিদ হোসেনের মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজে অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অবৈধ ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে তাঁকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাঁকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

গতকাল অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সাকিব রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসআরবি-১০–এর ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান।

যৌথ বাহিনী সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী আবুল কাশেমের চারতলা ভবনের নিচতলা ভাড়া নিয়ে ‘জনতা ল্যাবরেটরিজ আয়ুর্বেদিক’ নামে কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছিলেন বায়েজিদ হোসেন। প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো প্রশিক্ষিত কেমিস্ট ছিল না।

অভিযানে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের আয়ুর্বেদিক, শিশুদের জন্য বেবি জেলি ও যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং কাঁচামাল জব্দ করা হয়। এ সময় জিল্লুর রহমান নামের এক কর্মচারীকে আটক করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ২০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া কারখানার যন্ত্রপাতি সরিয়ে ফেলার জন্য ভবনমালিককে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব রহমান বলেন, ‘এখানে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের ভেজাল ওষুধ, শিশুখাদ্যের বিভিন্ন ক্ষতিকর কেমিক্যাল, আয়ুর্বেদিক ওষুধ পেয়েছি। এগুলো আমরা বাজেয়াপ্ত করেছি এবং বিনষ্ট করা হবে। এখানে যেসব ওষুধ তৈরি করা হতো, সেগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর৷ এখান থেকেই মূলত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব ক্ষতিকর ওষুধ সরবরাহ হয়ে থাকত বলে আমরা বিভিন্ন রসিদও পেয়েছি।’

বায়েজিদ হোসেন এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তাঁর বাড়ি আলফাডাঙ্গা উপজেলায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়ার পর গতকাল বিকেলে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। দলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে (বায়েজিদ) স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।