আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে বিশেষ সম্মানে ভূষিত হলেন লিওনেল মেসি। তাকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেট। তাকে ক্লাবটির সম্মানসূচক সদস্য ঘোষণা করা হয়েছে।
রিভার প্লেটের প্রেসিডেন্ট স্তেফানো দি কার্লো নিজ হাতে মেসির কাছে তুলে দেন সম্মানসূচক সদস্যপদ কার্ড। একই সঙ্গে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি স্মারক ফলক এবং বিশেষ একটি জার্সি।
এদিন মেসিকে ঘিরে ছিল একের পর এক সম্মাননা। বুয়েনস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট পাওয়ার পর তিনি মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে যান। সেখানেই রিভার প্লেটের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এই বিশেষ সম্মান গ্রহণ করেন তিনি।
রিভার প্লেট তাদের সামাজিক মাধ্যমে মেসিকে সম্মান জানানোর বিষয়টি প্রকাশ করে। ক্লাবটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঐতিহাসিক এই দিনে সভাপতি স্তেফানো দি কার্লোর সঙ্গে থাকা সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়কে এমন একটি সদস্যপদ কার্ড দেওয়া হয়েছে, যা তাকে ক্লাবের সম্মানসূচক সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে একটি স্মারক ফলক এবং তার নাম লেখা ‘পবিত্র জার্সি’।
ক্লাবটি মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, ‘ফুটবলের জন্য ধন্যবাদ, লিওনেল মেসি।’ মেসির প্রতি রিভার প্লেটের এই সম্মান তাই শুধু আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং ক্লাবটি তাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের প্রতি নিজেদের শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে।
মেসিকে দেওয়া সম্মানসূচক সদস্যপদ কার্ডেও রাখা হয়েছে বিশেষত্ব। সাধারণত সদস্যপদ কার্ডে যে নম্বর থাকার কথা, সেখানে মেসির কার্ডে লেখা হয়েছে ‘ARG18122022’। এই কোডের মাধ্যমে ২০২২ সালের সেই তারিখকে স্মরণ করা হয়েছে, যেদিন কাতারে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন মেসি।
অর্থাৎ রিভার প্লেটের দেওয়া সদস্যপদ কার্ডেও মেসির সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সাফল্যের স্মৃতি জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই সম্মাননার মাধ্যমে রিভার প্লেট মূলত জাতীয় দলের হয়ে মেসির দীর্ঘ সাফল্য এবং মোনুমেন্টালের সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্ককেও তুলে ধরেছে।
আর্জেন্টিনার সব ক্লাবের প্রতিই মেসি বরাবর সম্মান দেখিয়েছেন। তবে রিভার প্লেট ও মেসির সম্পর্ককে অন্যরকম বলে মনে করা হয়। এর বড় কারণ, রিভার প্লেটের ঘরের মাঠ এস্তাদিও মোনুমেন্টালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসি কাটিয়েছেন অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত।
এই মাঠে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ, প্রীতি ম্যাচ এবং আর্জেন্টিনার হয়ে জেতা চারটি শিরোপা উদ্যাপনের স্মৃতিও রয়েছে তার। মনুমেন্টালে মেসির গোলসংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তার ক্যারিয়ারে যে চারটি স্টেডিয়ামে তিনি সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন, মোনুমেন্টাল তার একটি।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মোনুমেন্টালে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা আগের ২৮টি ম্যাচে মেসি কখনো হারেননি। তাই জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচের জন্যও মনুমেন্টাল বেছে নেওয়ার সঙ্গে মেসির এই বিশেষ সম্পর্ক আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মেসি ও রিভার প্লেটের সম্পর্কের ইতিহাস আরও পুরোনো। ২০০০ সালে, তখন তার বয়স মাত্র ১৩ বছর, বার্সেলোনায় যাওয়ার কিছুদিন আগে মেসি খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন রিভার প্লেটের হয়ে খেলার। ২০১৯ সালে ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা স্মরণ করেছিলেন মেসি।
জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচের আগে রিভার প্লেটের কাছ থেকে এই সম্মান মেসির বিদায়ী আয়োজনকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে। একদিকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নামার প্রস্তুতি, অন্যদিকে মোনুমেন্টালে নিজের পরিচিত এক ক্লাবের কাছ থেকে সম্মানসূচক সদস্যপদ গ্রহণ- সব মিলিয়ে মেসির বিদায়ের দিনটি পরিণত হয়েছে স্মৃতি আর শ্রদ্ধার দিনে।
রিভার প্লেটের হাতে পাওয়া সেই কার্ডে কাতারের বিশ্বকাপ জয়ের তারিখ, ফলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি এবং নাম লেখা বিশেষ জার্সি—সবকিছুতেই যেন মেসির দীর্ঘ ফুটবলযাত্রার আলাদা আলাদা অধ্যায়কে স্মরণ করা হয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে শেষবার মাঠে নামার কয়েক মিনিট আগে পাওয়া এই সম্মান তাই মেসির জন্যও হয়ে থাকল বিশেষ এক মুহূর্ত।