২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় দুশ্চিন্তায় চাঁদপুরের জেলেরা

চাঁদপুর প্রতিনিধি ।।
প্রকাশ: ১৯ ঘন্টা আগে

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরেই জীবিকা চলে হাজারো জেলে পরিবারের। নদীতে মাছ ধরা তাদের পেশা, আবার নেশাও। কিন্তু চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় এমনিতেই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এর মধ্যে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলেরা।

চাঁদপুর সদরের পুরানবাজার রনাগোয়াল এলাকার মেঘনা পাড়ের জেলে লিটন জানান, নদীতে মাছ ধরি, এটা আমাদের পেশা ও নেশা। কিন্তু নদীতে যে ইলিশ পাই, তা দিয়ে সংসার চলে না। এখন ২২ দিন নদীতে নামতে পারব না। এই সময়টা আমাদের অনেক কষ্টে কাটাতে হবে। কিস্তির ঋণ নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সরকার যে চাল দেয়, তা দিয়ে সংসার চলে না। চালের পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতা করলে আমাদের অনেক উপকার হতো।

একই এলাকার জেলে রিপন হোসেন জানান, আমরা চাই নদীতে অভিযান ঠিকমতো হোক। তবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমাদের ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় ২০ কেজি করে পাই। সংসার তো শুধু চাল দিয়ে চলে না, অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসও লাগে। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ, চালের পাশাপাশি আমাদের আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হোক।

ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকার পাশাপাশি ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে। চাঁদপুরের মতলব উত্তর থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকাও এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগ সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে জেলেদের দাবি, শুধু চাল দিয়ে ২২ দিন সংসার চালানো কঠিন। চলতি মৌসুমে ইলিশের আশানুরূপ না পাওয়ায় তাদের অনেকেই ঋণের কিস্তি ও সংসারের খরচ নিয়ে চাপে রয়েছেন। তাই খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতা এবং নিষেধাজ্ঞার সময়ে এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় জেলা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের স্বস্তি দিতে এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বরাদ্দ পাওয়া গেলে ২৫ কেজি চালের খাদ্য সহায়তার সঙ্গে জেলেদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কিছু অসাধু জেলে নদীর পাশের খাল থেকে নদীতে গিয়ে মাছ শিকার করেন। এবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাতে কেউ নদীতে নামতে না পারে, সে জন্য খালের মুখগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরলে এক থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ২০০৬ সাল থেকে সরকার এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। তবে জেলেদের প্রত্যাশা, ইলিশ রক্ষার এ উদ্যোগের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।