oppo_0
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের কানাই সাহা ঘাট সংলগ্ন তিতাস নদীর পাড়ে নির্মিত একটি পাকা ঘাট দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে পড়ে রয়েছে। মূল সড়কের সাথে কোনো সংযোগ না থাকায় সরকারের প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ঘাটটি কোনো কাজেই আসছে না স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩-৪ বছর আগে তিতাস নদীর তীরে এই ঘাটটি নির্মাণ করা হয়। ‘রামকৃষ্ণপুর রাম কানাই রায়ের বাড়ি দুর্গাপূজা মণ্ডপ’র প্রতিমা বিসর্জন এবং স্থানীয় লোকজনের গোসল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ সহজ করতেই ঘাটটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে মূল সড়ক থেকে প্রায় ১৫ ফুট দূরে এটি নির্মাণ করায় বর্তমানে কোনো মানুষ ঘাটে নামতে পারছেন না।
ঘাটলাটির অবস্থান নিয়ে দেখা গেছে চরম সমন্বয়হীনতা। চান্দেরচর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক জানান, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির প্রেক্ষিতেই ঘাটটি সড়ক থেকে একটু দূরে করা হয়েছিল, যাতে প্রতিমা ওঠা-নামার সময় পর্যপ্ত জায়গা পাওয়া যায়। কথা ছিল মাঝের ফাঁকা অংশটি স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে মাটি ভরাট করে নেবেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আর মাটি ভরাট করেননি।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে মণ্ডপ কমিটির একজন অন্যতম দায়িত্বশীল ব্যক্তি ভিন্ন মত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ঘাটলাটি ইঞ্জিনিয়ারদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। সিঁড়ি অনেক খাড়া হয়ে গেছে। সড়ক থেকে ঘাটের সংযোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে মাটি ভরাটের বরাদ্দ চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ওই এলাকার শুভ নামের এক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সাব-কন্ট্রাক্টে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি করেছিলেন। উক্ত প্রকল্পের প্যাকেজ, দরপত্র বা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবযোগদানকৃত হোমনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোতাহার হোসেন বলেন, আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। বিস্তারিত তথ্য না জেনে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।