সংবাদ শিরোনাম
শুক্রবার, ২৪শে মে, ২০১৯ ইং | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
কুমিল্লায় প্রেমিক যুগলের নগ্ন ভিডিও ধারন করায় ইউপি সদস্য আটককুমিল্লায় বিরল রোগে আক্রান্ত একই পরিবারের চারজনের সহায়তা কামনাকুমিল্লা নগরীতে পণ্য প্রত্যাহারে অভিযান, ৬ দোকানকে জরিমানা জরিমানা : # স্বপ্ন সুপারশপকে- ১০ হাজার টাকা # আমানা বিগ বাজারকে – ৩০ হাজার টাকা # খাকন স্টোর ও যদু লাল সাহার দোকানকে -১০ হাজার টাকা # মেসার্স হক এন্ড সন্সকে ৫ হাজার টাকা # হোসেন মোল্লা হোটেলেকে- ৩ হাজার টাকাকুমিল্লা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের মনোনয়ন জমা দিলেন টুটুলধানের ন্যায্য মূল্যের দাবী জানিয়ে কুমিল্লা জেলা বিএনপির স্মারক লিপিবাঞ্ছারামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যুচলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে চৌদ্দগ্রামে মানববন্ধনঅবশেষে বহিস্কার করা হলো ধর্ম কটুক্তিকারী কুবির সেই ছাত্রকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাব্যস্ততা বাড়ছে কুমিল্লার দর্জি পাড়ায়ড্রেজারে আটকে গেল শিশু মারজানার জীবনফেনীতে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ৫২টি পণ্যকুমিল্লায় বিজিবির সাথে বন্ধুকযুদ্ধে মাদক চোরাকারবারী নিহতকুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে মাদকসহ আটক ১গবাদি পশুপালন করে কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে হবে – সেলিমা আহমাদ মেরী এমপিকুমিল্লা নামেই বিভাগ হতে হবে – এমপি বাহারকুমিল্লায় মৌসুমী ফলের সমারোহ # আসছে ভারত থেকেওইমলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.)কে নিয়ে – আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে কুবি শিক্ষার্থী গ্রেফতারবুড়িচংয়ের এ যেন ব্রিজ নয় সাক্ষাত মৃত্যুর ফাঁদঅটোরিকশা চুরির সময় শালা-দুলা ভাই আটকছুটির দিনে কুমিল্লা নগরীতে জম জমাট ঈদ কেনাকাটা

সম্মুখ সমরের মুক্তিযুদ্ধা-৬ বিবস্ত্র অবস্থায় ১৩ জন নারীকে বদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করি- আবুল হাসেম

শাহাজাদা এমরান: বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হাশেম বলেছেন, আগষ্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমরা ভারতের সাবরুম ক্যাম্প থেকে জানতে পারি, রামঘর ডাকঘরের একটি রুমে ১৩জন মহিলাকে ধর্ষণ করে বিবস্ত্র অবস্থায় একটি রুমে আটকে রেখেছে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী। যে কোন সময় তাদের মেরে ফেলবে। এ কথা শুনে হাবিলদার বাহাউদ্দিনকে কমান্ডার করে ক্যাম্প কমান্ডার আমাদের ৯জনকে রামঘর অপারেশনে পাঠায়। আমরা সকাল ৯টায় সাবরুম বাজারের নৌকা ঘাটে এসে পৌঁছি। এখান থেকে নৌকা যোগে রামঘর সদরে আসি। পরে স্থানীয়দের সাহায্য নিয়ে আমরা জানতে পারি নোয়াখালির মতিন রাজাকার একটি থ্রি নট থ্রি রাইফেল নিয়ে রামঘর বাজার ডাকঘরের ঐ রুমটি পাহারা দিয়ে রেখেছে। গতকাল হানাদার বাহিনী কয়টা সময় এসেছে আর আজ সর্বশেষ কখন এসে কখন চলে গেছে এ সমস্ত খঁটিনাটি বিষয় আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনে পরিকল্পনা প্রনয়ন করলাম। অপারেশন কমান্ডার বাহাউদ্দিন ভাই জানাল, সময় কম। এখনি আক্রমন করতে হবে। আমরা ৯জন ডাকঘরের তিন দিক দিয়ে অবস্থান নিয়ে প্রবেশ করলাম। একটু সামনে এসে দেখি, মতিন রাজাকার রুমের সামনে একটি ছোট টুলে একটি থ্রি নট থ্রি রাইফেল নিয়ে বসে বসে জিমুচ্ছে। এই সুযোগে তাকে বসা থেকে উঠে দাঁড়ানোর আগেই আমরা তাকে অস্ত্র তাক করে আটক করতে সক্ষম হই। পরে তার কাছ থেকে চাবি নিয়ে রুমটি খুলে দেখি, ১৩জন যুবতী নারীর মধ্যে ৫জন নারী একেবারেই বিবস্ত্র আর ৮ জন অর্ধ বিবস্ত্র। রুমের বাহিরের আওয়াজে তারা বুঝতে পেরেছিল আমরা মুক্তিবাহিনী তাদের উদ্ধার করতে এসেছি। দড়জা খোলার পরই তারা দুই হাত দিয়ে লজ্জাস্থান ঢাকার বৃথা চেষ্টা করে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিল। আমরা আমাদের গায়ের কাপড় দিয়ে কোন মতে তাদের রুম থেকে বের করে পার্শ্ববর্তী একটি হিন্দু বাড়িতে নিয়ে যাই। পরে ঐ হিন্দু বাড়ির মহিলারা নিজেদের কাপড় চোপড় দিয়ে তাদের সাহায্য করে। পড়ে আমরা এই ১৩জন অসহায় নারীকে সাবরুম থানায় হস্তান্তর করে মতিন রাজাকারকে ধোলাই দিয়ে হরিনা ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেই।
মো.আবুল হাশেম।পিতা আবদুর মজিদ এবং মাতা জবেদা খাতুন। ১৯৫১ সালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের কনেশতলা গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহন করেন। পিতা-মাতার চার মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে তিনি সবার বড়। তিনি ১৯৭০ সাল থেকে চট্রগ্রাম শহরে তেলের পাম্পে চাকুরী করে আসছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যখন হানাদার বাহিনী চট্রগ্রাম শহরেও গণহত্যা শুরু করে তখন অন্যান্যদের মতো তিনিও রাতের আধারে চট্রগ্রাম শহর ত্যাগ করেন। কারফিউর কারণে সারা দেশেই গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। তাই কুমিল্লা নিজ বাড়িতে না গিয়ে তিনি চলে যান রামঘরের খালার বাড়িতে। এখানে আসতেও নানা পথঘাট ঘুরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিন দিন সময় লাগে। পাহারী আকাঁবাকা পথটি ছিল তার কাছে একেবারে অপরিচিত। রামঘরের স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু পরিবারও যখন একই কারণে চট্রগ্রাম ছাড়ছিলেন রামঘরে যাওয়ার জন্য তখন রাস্তায় আবুল হাশেমের সাথে তাদের পরিচয় হয়। পরে তাদের সহযোগিতাই রামঘর পৌঁছেন তিনি।

খালার বাড়িতে গিয়ে থাকার দুই দিন পর এপ্রিলের একেবারে প্রথম দিকে (মুক্তিযোদ্ধা হাশেম তারিখটি মনে করতে পারছেন না) তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে রামঘর বাজারে যখন হাটাহাটি করতেছিলেন তখন লক্ষ করলেন বাজারের এক কোনে অনেক মানুষের জটলা। মানুষগুলোর মাঝখানে একজন লোক ঠিকানা লিখতে ছিলেন।উৎসুক হয়ে ভীর ঠেলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন, যারা যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে চায় তাদের নাম ঠিকানা লিখতেছে। হঠাৎ করে আবুল হাশেমের মনে আগুন জ্বলে উঠল। পাকিস্তান রাষ্টের ৫৬ ভাগ জনসংখ্যা হওয়া সত্ত্বেও তারা আমাদের শোষন করছে। ৫২ তে কেড়ে নিতে চেয়েছে মায়ের ভাষা বাংলা। না,এই অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের দেশ থেকে পাকিস্তানীদের তাড়াতে হবে। করতে হবে দেশকে স্বাধীন। সামান্য কিছুক্ষন এই কথাগুলো ভেবেই যিনি লিখছেন আবুল হাশেম তাকে চিৎকার করে বলছেন, ভাই আমার নাম লেখেন। আমি যুদ্ধে যাব। মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমের একাগ্রতা দেখে তিনি তার নাম ঠিকানা লেখে বললেন, পরদিন সকালে যেন নৌকাঘাটে প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় নিয়ে আসে।
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে আবুল হাশেম বলেন, পরদিন সকালে নৌকাঘাটে গিয়ে দেখি আমার সাথে আরো ১২জন আছেন। তাদের মধ্যে যাদের নাম এই মুহুর্তে মনে আছে তারা হলেন, রফিক,বাবু,হুমায়ুন এবং মিরেরশ্বরাইয়ের আবদুল আজিজ।আমরা দুপুর ১২টায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুমে গিয়ে পৌঁছি। এখান থেকে আমাদের পাঠানো হয় হরিনা প্রশিক্ষন শিবিরে। এই প্রশিক্ষন শিবিরটি ছিল ১নং সেক্টরের অধিনে আর ১নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই হরিনা ক্যাম্পের কমান্ডার ছিলেন আমাদের কুমিল্লা শহরের বাদুরতলার এম এইচ চৌধুরীর মেয়ের জামাই মেজর এনামুল হক। যিনি তখন মেজর এনাম নামেই পরিচিত ছিলেন। এখানে আমরা ২ মাস প্রশিক্ষন নেই। আমাদের প্রশিক্ষক ছিলেন ময়মনসিংহের বিডিআরের হাবিলদার বাহাউদ্দিন। তিনি আবার আমাদের যুদ্ধকালীন সময়ের কমান্ডারও ছিলেন।
প্রথম যুদ্ধে অংশগ্রহন সম্পর্কে জানতে চাইলে বীরমুক্তিযোদ্ধা মো.আবুল হাশেম বলেন, সম্ভবত জুন মাস হবে।কমান্ডার বাহাউদ্দিন ভাই রাতে আমাদের জানালেন, খবর এসেছে রামঘর ডাকঘরে হানাদার বাহিনী ১৫/১৬জন নারীকে ধর্ষন করে আটকে রেখেছে। আমরা কাল সকালে রামঘর গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসব। যে কোন পরিস্থিতির জন্যই তোমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। যেহেতু তোমাদের প্রথম অপারেশন তাই মনোবল চাঙ্গা রাখবে যাতে পরবর্তী পর্যায়ে তোমাদের উপর আস্থা রাখতে পারি। পরদিন সকালে আমরা হরিনা থেকে সাবরুম এবং সাবরুম থেকে রামঘর এসে পৌঁছি। নৌকা থেকে নেমেই বুঝতে পারলাম কমান্ডার এখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি- সোর্স সব কিছু সম্পর্কে আগেই অবগত আছেন এবং তিনি খুব আস্থা নিয়েই স্থানীয়দের সাথে কথা বললেন। তিনিসহ আমাদের ৯জনকে তিন ভাগ করে অস্ত্রের পজিশন নিয়ে রামঘর ডাকঘরের তিন দিকে বিভক্ত করে সামনে এগুতো বললেন। আর স্থানীয় জনগন ছিল আমাদের পক্ষে। তবে কমান্ডার স্থানীয়দের আমাদের অপারেশনে সম্পৃক্ত করেননি। যদি না পরে পাক বাহিনী তাদের ক্ষতি করে বসে। এই অপারেশনে আমরা শত ভাগ সফল হই। কোন রকম বাধার সম্মুখীন আমাদের হতে হয়নি। আমরা রুমের পাহারাদার রাজাকার মতিনকে আটক করে বিবস্ত্র ৫ জন আর অর্ধ বিবস্ত্র ৮জন যুবতী নারীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।
এই সফল অপারেশনের পর আমাদের ৭জনকে হরিনা থেকে করিমাটিলা নিয়ে যাওয়া হয়। এই ক্যাম্পে যৌথভাবে দায়িত্বে ছিলেন ভারতীয় ও বাঙ্গালী সেনাবাহিনী। এখানে ক্যাম্পের অধিক নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকার খোলা হয়। পর দিন রেগুলার বাহিনীসহ আমাদের ৭২জন মুক্তিযোদ্ধাকে ৩ ভাগ করে ফেনী জেলার চম্পক নগর পাঠানো হয়। এটি শুভপুর-জয়চানপুর যুদ্ধ নামে পরিচিত। এটি ছিল একটি বড় যুদ্ধ। এবং এই যুদ্ধের জন্য আমরা থেকে শুরু করে আমাদের সেক্টর কমান্ডার পর্যায় পর্যন্ত পৃথক পৃথক অনেক কলা কৌশল নির্ধারণ করা হয়। আমাদের প্রথম কাজ ছিল ফেনীর চম্পকনগর ইপিআর অফিস এ্যাটাক এখান থেকে অস্ত্র নেওয়া। ইপিআর অফিস সংলগ্ন শুভপুর বাজার নামে একটি বড় বাজার রয়েছে।আমরা রাতের প্রথম ভাগেই বাজারটির নিয়ন্ত্রন নেই। পড়ে ইপিআর অফিসের চর্তুদিকে আমরা অবস্থান নেই। এরই মধ্যে হানাদার বাহিনী আমাদের অবস্থান জেনে যায়। রাত ১টার দিকে শুরু হয় প্রচন্ড গুলাগুলি।পুরো রাত গুলাগুলি চলে। পরদিন সকালে হানাদার বাহিনী পিছু হটার সময় জয়চানপুরে তারা আমাদের এ্যামবুশে পড়ে। এই যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর ৮/১০ জন সৈন্য নিহত হয়। আর তারা পিছু হটার সময় স্থানীয় এক রাজাকারের কারণে আমাদের এক যোদ্ধা নিহত ও ২জন আহত হয়। পরে এই চম্পকনগর ক্যাম্প দখল করে প্রায় এক সপ্তাহে এই ক্যাম্পে আমরা অবস্থান নেই। এই ক্যাম্পে অবস্থান করেই আমরা ফেনীর সমরগঞ্জের ক্যাম্পে হামলা করি। আমাদের তীব্র গেরিলা হামলার কারণে সমরগঞ্জ ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে ছাগলনাইয়া যায় হানাদার বাহিনী। আমরা আবার ছাগলনাইয়া গিয়ে তাদের প্রতিরোধ করলে তারা বাধ্য হয়ে ছাগলনাইয়াও ত্যাগ করে চট্রগ্রাম সেনা নিবাসের দিকে চলে যায়।
১৬ ডিসেম্বর রাত ৯টার সময় তখন আমরা ছাগলনাইয়া ক্যাম্পে অবস্থান করছি। এমন সময় খবর পাই, ঢাকায় ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পন করছে,দেশ স্বাধীন হয়েছে। মুহুর্তের মধ্যে পুরো ছাগলনাইয়া যেন মিছিলের শহর হয়ে গেল। নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধা যে যেভাবে পাড়ছে স্লোগান দিচেছ, জয় বাংলা,বাংলাদেশ ,বাংলাদেশ ইত্যাদি বলে। আর আমাদের নিয়ে তারা শুরু করল উল্লাস। সে যে কি উল্লাস তা আজ আর ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এলাকার মানুষেরা তৎক্ষনিক খাসী জবাই করে আমাদের খাওয়ালো। পরে এখান থেকে আমরা চট্রগ্রামে চলে যাই। আমাকে ১৯ বেঙ্গলে যোগদান করতে বলা হলো। যোগদান করেই আমি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাড়িতে আসি।
এই ৯ মাস আমাকে না দেখে বাবা-মা বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে, আমি বেঁচে আছি। প্রতিবেশীর কাছে শুনেছি, প্রতিদিনই মা আমার নামাজে বসে আমার জন্য ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করে বলত, হে আল্লাহ আমার হাশেমকে তুমি আমার কাছে ফিরিয়ে দাও ।
যুদ্ধের পরবর্তী অবস্থা জানতে চাইলে বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম বলেন,১৯ বেঙ্গলে যোগ দিয়ে চার বছর চাকুরী করার পর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে চাকুরী ছেড়ে দেই। পরবর্তী সময়ে পেটের দায়ে হাট বাজারে ডাল পুরি ,পিয়াজু বিক্রি করে ফেরি করে জীবন চালিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের পর এক মুঠো ভাতের জন্য এমন কোন কষ্ট নেই করিনি। এখনো মাথার উপর কোন ছাদ নেই।মাথা গোজার ঠাঁই নেই। সরকারের ভাতাটাই এখন আমার একমাত্র সম্বল। তিনি সরকারের কাছে দাবী জানান, সরকার যেন তাকে একটু জায়গার মধ্যে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেন।
যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন তা পূরণ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এই বীর যোদ্ধা বলেন, দেশ স্বাধীনের জন্য যুদ্ধ করেছি দেশ তো স্বাধীন হয়েছে। এখন স্বপ্ন দেখি শেষ জীবনে যাতে ভাল থেকে ভাল পড়ে জীবন ধারন করতে পারি।
আগামীর বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাল দেখতে চাই। যাতে সারা বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকে সম্মান করে শ্রদ্ধা করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন............
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares
  • 3
    Shares



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *