অনিয়মের বেড়াজালে চাঁদপুর ২৫০ শয্যার হাসপাতাল

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

চাঁদপুর প্রতিনিধি :  নানা সমস্যা ও অনিয়মের বেড়াজালে ঘিরে আছে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। ভৌগলিক কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধায় পার্শ্ববর্তী ল²ীপুর ও শরিয়তপুরের কয়েকটি উপজেলার রোগীসহ চাঁদপুর জেলার রোগীরা এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এতে প্রতিদিন অস্বাভাবিক রোগীর চাপ থাকে। এরকম পরিস্থিতিতে রোগী সেবার নামে বাণিজ্য, দালাল নির্ভরতা, রোগীর সঙ্গে নার্সদের দুর্ব্যবহার, কতিপয় চিকিৎসকের ইচ্ছামতো হাসপাতালে আসা ও চলে যাওয়া নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের কেউ কেউ রুমে না থাকলেও এসি-ফ্যান অনবরত চলতে থাকে। ওষুধের স্লিপ পেয়েও ওষুধ না পেয়ে রোগীর ফেরত যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাক্সিক্ষত চিকিৎসা না পাওয়া, হরহামেশা চিকিৎসক তার চেয়ারে না থাকার বিষয়টিও প্রচলিত বললে ভুল হবে না।

চাঁদপুর সদরের মৈশাদী থেকে হার্নিয়া রোগ নিয়ে আসেন সফিক জমাদার। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তিনি হাসপাতালের বেডে কাতরালেও সার্জিক্যাল চিকিৎসক ওই রোগীকে সিরিয়ালমতো দুসপ্তাহ পরে অপারেশন করবেন বলে জানিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে ওই রোগীর লোকজন শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে দ্রুত অপারেশন করান। চাঁদপুর শহরের বকুল তলার বাসিন্দা সাগর বেপারী বলেন, ডা. হাসানুর রহমান আমাকে ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান এক্সরে করার জন্য। সেখানে আমার কাছ থেকে ১৬শ টাকা নেয়।

সরেজমিন দেখা যায়, অর্থোপেডিক্স বিভাগের ডা. আনিসুর রহমানের সহকারী রীণা রোগীদেরকে এক্সরে করানোর জন্য যেতে বলছেন হাসপাতালের সামনের ফেমাস ও মিম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। যে কেউ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের ইনডোরে কিছু সময় থাকলেই চোখে পড়বে এ যেন চিকিৎসক আর নার্সদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

কে কিভাবে মানুষের মাথায় বাড়ি দিয়ে নিরীহদের ঠকিয়ে টাকা রোজগার করবেন এমন অশুভ প্রতিযোগিতা চলছে।

হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান বলেন, মেডিকেল অফিসাররা সম্মানিত মানুষ, আমি তাদেরকে পাহারা দিয়ে রাখতে পারি না। আমি এখানে যোগদান করেছি ১১ মাস। অনেক সমস্যা ছিল। অনেক পরিবর্তন যে এনেছি নিশ্চয় দেখতে পাচ্ছেন। আগামী সপ্তাহে এ হাসপাতালে এনসিডি সার্ভিস চালু হচ্ছে। এ ছাড়া ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ারও দ্রুত শুরু হবে। একজন রোগী আসার পর তার সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা একটা রুমেই করে ফেলা হবে।