গতকাল সোমবার বিকেলে বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালির মাধ্যমে কুমিল্লা মুক্ত দিবস পালন করে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় কুমিল্লা।
বিকাল ৪টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে তৎকালীন পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসনিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মরহুম জহুর আহমেদ চৌধুরী দলীয় পতাকা এবং কুমিল্লার প্রথম প্রশাসক অ্যাডভোকেট আহমদ আলী স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের স্মৃতিকে স্মরণ করে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে টাউন হল থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী কুমিল্লা বিমানবন্দরে পাক বাহিনীর ২২ বেলুচ রেজিমেন্টের ঘাঁটিতে আক্রমণ শুরু করে। মিত্রবাহিনীর ১১ গুর্খা রেজিমেন্টের আর কে মজুমদারের নেতৃত্বে তিনদিক থেকে এই আক্রমণ চালানো হয়। একই সময়ে লে. দিদারুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল বিবিরবাজার সীমান্ত দিয়ে, অপর দুটি দল গোমতী নদী পাড়ি দিয়ে ভাটপাড়া ও চৌদ্দগ্রামের বাঘেরচর হয়ে বিমানবন্দর ঘাঁটিতে আক্রমণে যোগ দেয়।
রাতভর তুমুল যুদ্ধে ২৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। অপরদিকে পাক বাহিনীর অনেক সৈন্য পালিয়ে বরুড়া, ময়নামতি ও অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভোরে মুক্তিযোদ্ধারা বিমানবন্দরের প্রধান ঘাঁটি দখলে নিলে কুমিল্লা আনুষ্ঠানিকভাবে হানাদারমুক্ত হয়।