কুমিল্লায় তিন শিশুকে বলাৎকার করা বখাটে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

কুমিল্লায় ছিন্নমূল ও দরিদ্র পরিবারের তিন শিশুকে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে বলাৎকারের অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব কুমিল্লা। পরে তাকে সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম সুমন মিয়া(৩৬)। তার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ছেচড়া পুকুরিয়া গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব ১১ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।
মেজর সাকিব জানান, রোববার ৪ অগাস্ট ছদ্মনামে একজন লোক এসে অভিযোগ করে কুমিল্লা রানীরবাজার বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে কর্মরত তিন শিশুকে বলাৎকার করে ওই ফ্যাক্টরিতে কর্মরত সুমন মিয়া (৩৬)। বিষয়টি আমলে নিয়ে র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে ঐদিনই বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, সে প্রায় ২ বছর যাবৎ বিসিক শিল্পনগরীর একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরীতে কর্মরত আছে। অল্প বয়স্ক ছেলেদের বলৎকার তার এক ধরনের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। সে বিভিন্ন সময়ে অল্প বয়স্ক ছেলেদের উক্ত বিস্কুট ফ্যাক্টরীতে কাজের জন্য নিয়ে আসত। পরবর্তীতে তাদের সাথে মামা-ভাগ্নের সম্পর্ক তৈরী করে তাদেরকে বিভিন্ন সময় ভাড়া বাসায় নিয়ে যেয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক বলৎকার করত এবং তা ভিডিও ধারণ করে রাখত।

বলৎকারের ছবি ও ভিডিও নিজের মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখে ও এই ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ভিকটিমদেরকে সংরক্ষিত ভিডিওর ভয় দেখিয়ে পুনরায় বলৎকার করে। সে আরো স্বীকার করে যে, রেলস্টেশন ও বাসস্টেশনের ছিন্নমূল অল্প বয়সী ছেলেদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যেত এবং তাদেরকেও জোরপূর্বক বলৎকার করত।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীর মোবাইল পর্যালোচনা করে তার মোবাইলে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায় ।

র‌্যাব সোমবার গ্রেফতারকৃত আসামী সুমনকে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করেছে।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদুর রহমান জানান, সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আদালত পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, সোমবার দুপুরের পরে আসামী সুমনকে আদালতে নেয়া হলে ১ নম্বর আমুলি আদালতের জোষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাজহারুল হক তাকে কারাগারে প্রেরণ করার আদেশ দেন।