কুমিল্লায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে ঠিকাদারকে মারধর

# বাবুর হাত-পা ভেঙে গেছে এবং শরীরে বিভিন্ন অংশ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে- স্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

কুমিল্লায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সামনে থেকে ধরে নিয়ে মহানগর যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার মাসুদুল ইসলাম বাবুকে ব্যাপক মারধর করে মারাত্মক আহত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আহত মাসুদুল ইসলাম বাবু প্রয়াত অধ্যক্ষ আফজল খান পরিবারের অনুসারী। হামলায় তার হাত-পা ভেঙে গেছে এবং শরীরে বিভিন্ন অংশ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে বলে জানান স্ত্রী জিন্নাত সাকিলা ইয়াসমিন আরও বলেন,তার স্বামীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আহত যুবলীগ নেতা মাসুদুল ইসলাম বাবুর স্ত্রী বলেন, সোমবার (১ এপ্রিল) দুপুর ২টায় ঠিকাদারির কাজে ওই কার্যালয়ের সহকারী শিক্ষা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করতে গেলে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম রিন্টুর নেতৃত্বে সবুজ, ইয়াছিন, ইসমাইল, জালাল, নাসির ও সোহাগসহ ২০/২৫ জন মিলে তাকে রড দিয়ে বেধরক মারধর করেন। শুধু তাই নয়; সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে কক্ষ থেকে বের করে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে আহত বাবুকে ভেতরের স্টোর রুমে লুকিয়ে রাখা হয়। এসময় তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ভেঙ্গে ফেলায় পরিবারের লোকজন কোন ধরনের যোগাযোগ করতে পারেনি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেখানে গিয়ে তার মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে তার সন্ধান পায় পরিবার। খবর পেয়ে সেখানে সিটি কাউন্সিলর আবদুর রহমানসহ পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে সহকারী শিক্ষা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান মুঠো ফোনে জানান, হামলা ও মারধরের সময় তিনি কার্যালয়ে ছিলেন না। তিনি কার্যালয়ের বাহিরে ছিলেন বলেই মোবাইল ফোন রেখে দেন।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ডা. আজম খান নোমান বলেন, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে যুবলীগ নেতা বাবুর ওপর এ হামলা চালিয়েছে এমপি বাহারের অনুসারী জহিরুল ইসলাম রিন্টুসহ তার সহযোগীরা। দলীয় সিনিয়র নেতাদের সাথে পরামর্শ করে পরিবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
হামলা ও মারধরের বিষয়ে জানতে মুঠো ফোনে একাধিক চেষ্টা করেও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম রিন্টুর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন মাসুদুল ইসলাম বাবুকে দেখতে গিয়েছেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এড. আনিছুর রহমান মিঠুসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ক্যাপশন
কুমিল্লা মহানগর যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার মাসুদুল ইসলাম বাবুকে গতকাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ব্যাপক মারধর করে মারাত্মক আহত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।