কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসি লাগানোর হিড়িক

*এসি বন্ধের নির্দেশনা দিলেও মানছে না কেউ
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

মহিউদ্দিন মাহি, কুবি ।। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সাশ্রয়ের কথা বলা হলেও সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) স্থাপনের হিড়িক পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান, ডিন, প্রাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তার কক্ষে নতুন করে মোট ৩৬ টি এসি লাগানো হয়েছে। সংকটের মধ্যেই এসি লাগানোর বিষয়টি মানুষকে ভুল বার্তা দিবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বিশ^বিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৯টি বিভাগে ২১ টি এসি বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি করে পেয়েছে রসায়ন ও পরিসংখ্যান বিভাগ। আর গেল মাসে উদ্ধোধন হওয়া শেখ হাসিনা হল ব্যতিত বাকি চার আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষের জন্য চারটি, উপাচার্যের বাংলোয় দু’টি এবং বিজ্ঞান অনুষদের জন্য তিনটি এসি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা কার্যালয়, প্রক্টর, অর্থ ও হিসাব দপ্তর, রেজিস্ট্রার দপ্তর, কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টার এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের জন্য একটি করে এসি বরাদ্দ দিয়েছে প্রশাসন। যদিও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা কার্যালয়ের জন্য নির্ধারিত কোনো দপ্তর নেই। এর মধ্যে ২৭ টি দুই টন (এসির সক্ষমতা পরিমাপের একক) ও নয়টি ১ দশমিক ৫ টন করে। অর্থাৎ ৩৬টি এসি মোট ৬৭ দশমকি ৫ টনের। এর মধ্যে অধিকাংশ স্থানেই এসির স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে।
এদিকে গত ২৮ জুলাই বিভিন্ন ভবন ও হলসমূহের কক্ষে এসি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় কর্তৃপক্ষ। বিশ^বিদ্যালয়ের ৭২ তম জরুরি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে বৃহস্পতিবার পরিবহন বন্ধ রেখে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কক্ষে এসি লাগানো নিয়ে সমালোচনা করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেহেদি হাসান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলে সাপ্তাহিক দু’দিন ছুটির বাইরেও বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন অঘোষিত ছুটি চলছে। পরিবহনও বন্ধ রাখা হচ্ছে। শহরে যারা টিউশন করাচ্ছে তারা এ সংকটের মধ্যেও অতিরিক্ত ভাড়া গুণে যাতায়াত করছে। অথচ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কক্ষে এসি লাগানোর হিড়িক পড়েছে। এই সময় তো এসি লাগানোর সময় না। তাহলে প্রশাসন কেমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? একদিকে শিক্ষার্থীদের ভুগতে হচ্ছে। অপরদিকে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কক্ষে এসি লাগানো হচ্ছে।
আব্দুল মান্নান নামে লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, যে সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নিজেই মানতে পারে না, সে সিদ্ধান্ত দিয়ে অন্যদেরকে বঞ্চিত করছে প্রশাসন। এ ধরনের কার্যক্রম বিশ^বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
এদিকেআগে থেকেই শ্রেণিকক্ষে এসি আছে বিভিন্ন বিভাগের এমন ১০ শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্দেশনার পরও তাঁদের শ্রেণিকক্ষ ও বিভাগে এসি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।এছাড়া, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কক্ষ ও প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন কক্ষেওএসি চলতে দেখা গেছে। বুধবার বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়েও চলমান এসি দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনাগ্রহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বলেন, বিদ্যুতের সংকটাপন্ন এমন সময়ে এসি স্থাপন করে কর্তৃপক্ষ মানুষদেরকে ভুল বার্তা দিচ্ছে। সরকার থেকে যেহেতু বলা হচ্ছে সেপ্টেম্বরে বিদ্যুতের সমস্যা কমবে। সুতরাং কিছুদিন পরেও লাগানো যেত।
ওই অধ্যাপক আরও জানান, প্রশাসনের নির্দেশনায় বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়মিত মনিটর করা হবে বলা হলেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি তাঁর।
গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম আবদুল মঈনেরমুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেওএসব বিষয়েমন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, ৩৬ টি এসি লাগানোর বিষয়ে তিনি জানেন না। বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে আবার যদি এসি লাগানো হয়, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই পরস্পরবিরোধী। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক হওয়া উচিৎ।