কুমেক হাসপাতালে লাশ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ, ছবি তোলায় স্বজনকে মেডিকেল স্টাফদের মারধর

তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব- কুমেক পরিচালক
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক নারীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর তার লাশকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য, অনুমতি ছাড়া রোগী অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর এবং ছবি তুলতে গেলে স্বজনকে মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এ বিষয়ে এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন মৃত উম্মে হানি রুপা (৩০) এর চাচা মো. ওমর ফারুক।

ভুক্তভোগী স্বজন ওমর ফারুক

ভিডিও বার্তায় জানা যায়, মৃত নারী উম্মে হানি রুপা (৩০) কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের বড় ভুশিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাবা-মা না থাকায় তার অভিভাবক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দেখাশোনা করে আসছিলেন চাচা মোহাম্মদ ওমর ফারুক। পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে পেটব্যথা নিয়ে অসুস্থ হলে প্রথমে তাকে ব্রাহ্মণপাড়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চিকিৎসকরা রুপার পেটে এন্ডোস্কোপি পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার দুপুরে পরীক্ষার জন্য নেওয়া হলে সেখানেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে বলে দাবি করেন স্বজনরা। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার সময় চিকিৎসকদের অবহেলা বা ভুলের কারণে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রুপার চাচা ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, তার অনুমতি ছাড়াই ওই রাতেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিছু স্টাফ রোগীকে কুমিল্লার বেসরকারি ট্রমা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে নিলে কম খরচে রোগী সুস্থ হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরদিন সকালে তিনি জানতে পারেন, রোগী আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় স্বজনদের কাউকেই রোগীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
একপর্যায়ে জোর করে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালের আইসিইউতে ঢুকে তিনি দেখেন, রোগীর কোনো স্বাভাবিক নড়াচড়া নেই এবং তাকে কৃত্রিমভাবে জীবিত রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ হয় তার। এরপরও ট্রমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করে এবং প্রায় ১১ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে রাখার বিল হিসেবে ৭৬ হাজার টাকা নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিল পরিশোধের পর রোগীকে আবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওমর ফারুক জানান, মঙ্গলবার বিকেলে চিকিৎসকরা তাকে আশ্বস্ত করেন রোগী সুস্থ আছে এবং রাতে কিছু পরীক্ষা করা হবে। কিন্তু পরদিন বুধবার সকালে হঠাৎ করেই তাকে জানানো হয়, তার রোগী মারা গেছেন। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া দিলেই লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
এদিকে, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখতে পান, মরদেহটি মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে। এ দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতে গেলে হাসপাতালের স্টাফ শাহাবুদ্দিন সাইফুল ভুক্তভোগী ওমর ফারুকের ওপর হামলা চালায় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, তাদের অনুমতি ছাড়াই লাশ বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বুধবার রাত পর্যন্ত তারা লাশ বুঝে পাননি বলেও দাবি করেন ওমর ফারুক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ওমর ফারুক বলেন, আমার ভাতিজি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এন্ডোসকপি করানো অবস্থাতেই মারা গিয়েছে। পরে নানা বাহানায় তার লাশ নিয়ে বাণিজ্য করার জন্য তাকে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে তাও আমার অনুমতি না নিয়েই। পরে ট্রমা হাসপাতাল থেকে আবারো মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানেও তারা চেয়েছিল আমার কাছ থেকে বিল আদায় করতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে। এরপর আবার আমার ভাতিজিকে মৃত বলে তারা আইসিউর বেড থেকে নামিয়ে মেঝেতে ফেলে রেখেছিল। আমি সেটা ছবি তুলতে গেলে তারা আমাকে মারধর করে। আমার গেঞ্জি ছিড়ে ফেলে এবং চশমা ভেঙ্গে ফেলে। আমার অনুমতি না নিয়েই তারা লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্বজনরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজ বলেন, ভুক্তভোগীকে সকল অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে লিখে আমার কাছে পাঠালে আমি এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব