কুসিক নির্বাচন : ২৪ কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৩৩ মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

স্টাফ রিপোর্টার ।। আসন্ন কুসিক নির্বাচনের ইতিমধ্যে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই শেষ হয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২৭ ওয়ার্ডের ১২০জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ২৪জন কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে ১৩৩ মামলা। প্রার্থীদের দায়েরকৃত হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসিতে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে জানা যায়, হত্যা, নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস বিরোধী কার্যকলাপ, মাদক ব্যবসা, অস্ত্রবাজি, প্রতারণা ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৩৩ টি মামলা আছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ শাহেদুন্নবী জানান, যখন কোন প্রার্থী কোন মামলায় সাজা হবে তখন সে আর প্রার্থী হতে পারবে না। আমরা যাচাই বাছাই করে দেখেছি যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের মামলা বিচারাধীন।
মামলার বিবাদী ওই কাউন্সিলর প্রার্থীদেরও দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁদের বিভিন্ন সময়ে মামলায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা ষড়যন্ত্রের শিকার। ওয়ার্ডের ভোটাররা তাঁদের কাজ দেখে রায় দেবেন।
হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক, বিশেষ ক্ষমতা ও সন্ত্রাস দমন আইনে বর্তমানে ২৭ টি মামলা আছে। ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে বর্তমানে ২৫ টি মামলা আছে। ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ একরাম হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, বিশেষ ক্ষমতা ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ২৫ টি মামলা আছে। এই তিন প্রার্থী টানা দুই মেয়াদে নিজ নিজ ওয়ার্ডে জয়ী হন। তাঁরা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
২৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও সদর দক্ষিণ উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. খলিলুর রহমান মজুমদারের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চারটিসহ মোট পাঁচটি মামলা আছে। ২৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি মো. আব্দুস সত্তারের বিরুদ্ধে গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করা দুই কাউন্সিলর প্রার্থীকে হত্যার ঘটনায় দুইটি খুনের মামলা আছে। ২৭ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবুল হাসানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা আছে। ২৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মহানগর যুবলীগের বহিস্কৃত যুগ্ম আহবায়ক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা আছে। তবে এসব মামলাগুলো উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে উল্লেখ করেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা।
১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী গোলাম কিবরিয়া বলেন,‘ আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আদালতে মামলার হাজিরা দিতে দিতে আমি ক্লান্ত। এরপরেও এলাকাবাসীর পাশে ছিলাম, আছি। জনগণ কাজের কারণে আমাকে আবারও বেছে নেবেন। ২৫ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. খলিলুর রহমান মজুমদার বলেন, ভিন্ন দল করার কারণে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়।
এছাড়া ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী যুবদল নেতা মো. বিল্লালের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, বিস্ফোরক আইনসহ নানা অভিযোগে ২৬ টি মামলা আছে। একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা আছে। ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সরকার মাহমুদ জাবেদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা আছে। ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিনা ভোটে জয়ী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ রায়হান আহমেদের বিরুদ্ধে একটি মামলা আছে। ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. শাখাওয়াত উল্লাহ শিপনের বিরুদ্ধে মারামারি একটি মামলা , ১৫ নং ওয়ার্ডের ্র সাইফুল বিন জলিলের বিরুদ্ধে পুলিশের কর্তব্য কাজে বাঁধা ও মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য রোকন উদ্দিনের উপর হামলার ঘটনায় দুইটি মামলা আছে। ১৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা আছে। ১৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হাবিবের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুইটি মামলা আছে। ২৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা ও প্রতারনাসহ তিনটি মামলা আছে। একই ওয়ার্ডের মো. আনিসুজ্জামান ও শাহজালাল আলালের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা আছে। ২৪ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মারামারি ও সন্ত্রাস দমন আইনে দুইটি মামলা আছে। ২৫ নং ওয়ার্ডের অহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মারামারি একটি মামলা আছে। ২৬ নং ওয়ার্ডের মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও গোলাম সরোয়ার কাউসারের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা আছে। ২৭ নং ওয়ার্ডের জামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা আছে। ১০ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বিনাভোটে জয়ী মঞ্জুর কাদের মনির বিরুদ্ধে বাড়ি বন্টন নিয়ে একটি মামলা রয়েছে।
জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘ প্রতিদ্বন্ধিতায় প্রার্থীরা হলফনামায় তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার কথা নিজেরাই ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁরা অতীতে তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার কথাও হলফনামায় উল্লেখ করেন। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি। হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে নির্বাচন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।