চান্দিনা পৌরসভার ৪টি পাম্প চুরি; এক মাস ধরে সুপেয় পানি পাচ্ছে না পৌরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভায় ১টি নতুন, ৩টি সচল পুরাতন পানির পাম্প, ৯টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরিসহ নানা জটিলতায় সুপেয় পানি পাচ্ছে না পৌরবাসী। গত ৯ মে ওই চুরির ঘটনার পর থেকে গত এক মাস ধরে বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কটে ভুগছেন নাগরিকরা। এর মধ্যে উপজেলা সদরের বাগানবাড়ী, ধানসিঁড়ি আবাসিক এলাকা, রামমোহন রোড ও চান্দিনা বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে তীব্র দাবদাহের কারণে পৌরসভার প্রধান সড়কসহ সংযোগ সড়কগুলোতে প্রচুর ধূলাবালিতে পথচারীদের সমস্যা দেখা দিলেও সড়কগুলোতে পানি ছিটাতে পারছেনা পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভার পানি শাখার অধীনে রারিরচর এবং রেদোয়ান আহমেদ কলেজ সংলগ্ন দুটি পাম্প হাউজ থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এই হাউজ দুটির পানিতে অতিরিক্ত আয়রণ থাকায় এগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয় পৌর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বড়গোবিন্দপুরের ১টি মাত্র পাম্প হাউজ থেকে পানি উত্তোলন করা হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে সব গ্রাহকদের পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে পৌর ভবন সংলগ্ন পৌরসভার পানি শাখার গোডাউন থেকে গত ৯ মে মঙ্গলবার রাতে ১টি নতুন, ৩টি সচল পুরাতন পানির পাম্প, ৪টি গাড়ির ব্যাটারি চুরি হয়। ওই ঘটনায় পরদিন চান্দিনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন পৌর কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০২২ সালে তিন দফায় ৯টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এবিষয়ে সময়ে সময়ে চান্দিনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও কোন মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

বাগানবাড়ী আবাসিক এলাকার বাসীন্দা বাগানবাড়ি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ্ ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হোসেন বলেন, ‘এই আবাসিক এলাকার নাগরিকরা সুপেয় পানি দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। গত দুই মাস ধরে ঠিকমত পানি পাচ্ছিনা আমরা। বিষয়টি পৌরসভাকে জানিয়েও কোন লাভ হচ্ছেনা।’

এব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. সাহাবুদ্দীন খাঁন বলেন, পৌরসভার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এব্যাপারে চান্দিনা পৌরসভার মেয়র শওকত হোসেন ভূইয়া জানান, ‘গোবিন্দপুরে একটি পাম্প চালু আছে। ত্রিশ কোটি টাকা প্রকল্পের আওতায় কাঠেরপুল এলাকায় আরেকটি পাম্প বসানোর কাজ চলমান রয়েছে। এটি চালু হলে পানির সমস্যা থাকবে না।’