চৌদ্দগ্রামে নদীর পড়ে বস্তাবন্দি কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে খাদিজা।

খাদিজা কে পেয়ে খুশি ইকবাল -বিউটি দম্পত্তি
আবুল বাশার রানা, চৌদ্দগ্রাম  প্রতিনিধি।। 
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কাঁকড়ি নদীর পাড় থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় বস্তায় মোড়ানো জীবিত এক কণ্যা নবজাতকের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সে কাশিনগর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন -বিউটি আক্তার দম্পত্তির কাছে রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা আখতার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর ডাক্তার রিপন ও কাশিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সহিদুর রহমান ইকবালের বাড়িতে গিয়ে বাচ্চাটির খোঁজ খবর নেন।

রবিবার সকালে উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ইকবালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ইকবাল কোলে নিয়ে শিশুটিকে আদর করছে,মা মা বলে ডাকছে,শিশু আপন ঠিকানা পেয়ে জেন শান্তিতে ঘুমাছে।
ইকবাল হোসেন জানান আমরা তিন ভাই, আমাদের কারো মেয়ে সন্তান নাই। আল্লাহর রহমতে আমার ভাগিনা সবুজ এ বাচ্চাটি পায়।আমি সবুজ থেকে লালনপালন করার জন্য নিয়ে আসি। পারিবারিক ভাবে ওর নাম ঠিক করেছি খাদিজা। আর দুই দিন পরে হুজুর দিয়ে নাম রাখবো। আইনীভাবে পাওয়ার বিষয় উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি। আমি কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতকটিকে পেয়ে খুবই খুশি। আশা করি-প্রশাসন আমার বিষয়টি বিবেচনা করে নবজাতকটি আমার কাছেই আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবে’।

কৃষক হানিফ মিয়া বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্লাবের পিছনে কাঁকড়ি নদীর পাড়ে কচুর ফুল সংগ্রহ করতে গেলে একটি সাদা বস্তা দেখতে পাই। পরে এতে কিছু একটা থাকতে পেরে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়দের জানালে লোকজন নিয়ে আসলে একটি বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনতে পায়। পরে সেখানে বেশ কিছু লোকজন জড়ো হয়ে একটি সাদা বস্তা দেখতে পায়। বস্তার মুখ খুলে দেখে সদ্য ভুমিষ্ট একটি কণ্যা নবজাতক সন্তান। বিষয়টি তাৎক্ষণিক এলাকায় জানাজানি হলে অনেকে নবজাতকটিকে দত্তক নিতে চায়।

রামপুরনচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা নূর হোসাইন রাজিব জানান, শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় এক কৃষক হানিফ মিয়া নদীর ধারে কচুর ফুল সংগ্রহ করতে গেলে শিশুটিকে দেখতে পায়। খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করি। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বাচ্চাটিকে সেবা যত্নের জন্য স্থানীয় রামচন্দ্রপুর গ্রামের শাখাওয়াত হোসেন সবুজ দম্পত্তির কাছে রাখা হয়। রাতেই সবুজের মামা একই গ্রামের ইকবাল হোসেন ও তার স্ত্রী বিউটি বেগম লালন পালন করার জন্য নিয়ে আসে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হোসেন বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় আমরা গিয়ে শিশুটি দেখে আসছি। গত শুক্রবার
খবর পেয়ে আমি সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে বাচ্চাটির জন্য নতুন পোশাক কিনে ইকবাল – বিউটি দম্পত্তির বাড়িতে পাঠিয়েছি।শিশুটির আনুমানিক বয়স ৩-৪ দিন। তাই তাকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য আপাতত ইকবাল ও তার স্ত্রীর হেফাজতে রাখা হয়েছে। আগামীতে যেন বাচ্চাটির কোন সমস্যা না হয়, সেজন্য আইনী প্রক্রিয়া সম্পাদন করে রাখার ব্যবস্থা করা হবে’।