ঝড়ে পড়া আম দিয়ে শুরু রাজশাহীর আম বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

আর কয়েকদিন পরই শুরু হবে মধু মাস। জৈষ্ঠ্যের শুরু থেকেই বাজারে উঠতে শুরু করবে পাকা আম। সাধারণত কাঁচামিঠা ও গুটি জাতের আম দিয়েই শুরুর হয় আমের বাজার। তবে এবার ঝড়ে পড়া আম দিয়েই শুরু হয়েছে রাজশাহীর আমের বাজার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানে কম দাম হলেও রাজশাহীর বাইরে এর চাহিদা বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর রাজশাহীতে ১৮ হাজার হেক্টর জমির বাগানে ২ লাখ ৩০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। তবে গত দু’দিনে বেশ কিছু এলাকায় হালকা ঝড় ও কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে কিছু আম ঝরে গেছে। এরপরও উৎপাদিত আম রাজশাহীর চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে বাজারজাত করা হবে।

পুরো মৌসুমে প্রায় হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্য হয় বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে। মূলত এ ঝরে পড়া আমের বিক্রি দিয়েই শুরু হয় আম বাণিজ্য।

এদিকে বাজারে প্রতি বছর এমনিতেই নতুন আসা মৌসুমি ফলের প্রতি ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা থাকে। এর ফলে দামও কিছুটা বেশি থাকে। কিন্তু এবার ঝড় ও বৃষ্টিতে গত কয়েকদিনে প্রচুর পরিমাণে আম ঝরে পড়েছে। ফলে আমের চাহিদা ও সরবরাহ বেড়েছে। এতে দামও কমেছে।

অন্যান্য বছর এই সময় ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় ঝরে পড়া কাঁচা আম। কিন্তু গেলো ক’দিন থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে পাইকারি ২ থেকে ৫ টাকা কেজি দরে। এসব আম খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ২০ টাকা দরে।

রাজশাহীর সাহেববাজার মাস্টার পাড়ার পাইকারি বাজার, জিরোপয়েন্ট বড় মসজিদের সামনে, রেলস্টেশন কাঁচাবাজার, শালবাগান বাজার ও নওদাপাড়া, লক্ষ্মীপুর, কোর্ট বাজার ও কাটাখালি বাজারেও উঠেছে বিভিন্ন জাতের কাঁচা আম। এর মধ্যে আঁটি জাতের আম, আশ্বিনা, গোপালভোগ, ল্যাংড়া ও ফজলি আমের গুটিও পাওয়া যাচ্ছে। তবে ফজলি আম কাঁচা অবস্থায় মিষ্টি হওয়ায় এর চাহিদাই বেশি। বাকি আমগুলো কাঁচা অবস্থায় একটু টক বেশি হওয়ায় এগুলোর দাম কম।

মান ও জাত ভেদে কাঁচা আম এখন ৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কেবল ফজলি আম ১৫ থেকে ২৫ টাকা কেজি করে চাচ্ছেন অনেক বিক্রেতা।

রাজশাহীর মাষ্টারপাড়া এলাকার আম বিক্রেতা মো. নাজির আলী বলেন, ঝড়ের কারণে প্রচুর আম এসেছে। তবে তেমন ক্রেতা নেই। অনেকেই আচার ও টক খেতে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে পরিমাণে খুবই কম।

তিনি বলেন, মূলত আম ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। সেখানে আমের দাম ও চাহিদা বেশি। এছাড়াও এখন থেকেই আম পাঠিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠছে। এরপরই পাকা আম পাঠানো হবে।

রাজশাহী কাঁচাবাজার সমিতির সভাপতি ফাইজুল ইসলাম বলেন, বাজারগুলোতে সাধারণত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে কাঁচা আম আসতে শুরু করে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে প্রচুর পরিমাণে আম বাজারে এসেছে। ফলে দামও কমে গেছে। বর্তমানে ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকায় এগুলোর চাহিদা বেশি।

তিনি বলেন, কাঁচা আমের এই বিক্রির মাধ্যমেই রাজশাহীর আমের বাণিজ্য শুরু হলো। এটি পাকা আম শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, গত দুদিনে বেশ কিছু এলকায় হালকা ঝড় ও কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে কিছু আম ঝরেছে। যদিও এতে উৎপাদনের কোনো ঘাটতি হবে না। আবহাওয়া মোকাবিলা করে এবারও বাম্পার ফলন হবে। রাজশাহীর চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে আম সরবরাহ করা হবে।