তিতাসে চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা জামাল হত্যার মামলা চার আসামি গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

রুবেল মজুমদার।।

কুমিল্লার তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন (৪০) হত্যার ৭ দিন পর রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে চারজন কে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রবিবার (৭মে) সকালে কুমিল্লা নগরীর শাকতলা র্যাব-১১ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য বলেন র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ তানভীর মাহমুদ পাশা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দির এলাকায় খুরশিদ মিয়া ছেলে মো.ইসমাইল। একই উপজেলার মনাইরকান্দি এলাকার মো. আক্তার হোসেন শিকদারের ছেলে সোহেল শিকাদার, দাউদকান্দি উপজেলা গোপচর এলাকার মৃত বজলুল রহমানের ছেলে শাহ আলম( পা কাটা আলম)। বাকী একজন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

র‌্যাব-১১ অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ তানভীর মাহমুদ পাশা আরো বলেন, গত ৩০ এপ্রিল রাতে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানাধীন গৌরীপুর পশ্চিম বাজার সংলগ্ন মসজিদের সামনে তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জামাল হোসেন (৪৫) খুন হন।

ঐ দিন রাতে বোরকা পরিহিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর পশ্চিম বাজার সংলগ্ন মসজিদের পাশে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় জামাল হোসেনের উপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

এই সময়ে বোরকা পরিহিত হামলাকারীরা জামালের উপর এলোপাথারী ভাবে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।পরে জামাল গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত জামালকে ঘটনাস্থলের উপস্থিত লোকজন গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে ঢাকায় নেয়ার পথে সে মারা যায়।

এর আগে নিহত জামালের সাথে মামলার ৩নং আসামী মোঃ ইসমাইল (৩৬) ও এলাকার পূর্ব পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির সাথে একটি দোকানের সামনে অবস্থান করছিল।পরে বোরকা পরিহিত অস্ত্রধারী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অতর্কিত জামালকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে বোরকা পরিহিত অপর একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী জামালকে লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং বোরকা পরিহিত অপর ব্যক্তি তার সাথে থাকা পিস্তল দিয়ে ভিকটিম জামালকে খুব কাছ থেকে মাথায় ও গুলি করে দ্রুত ঐ স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

শনিবার (৬ মে) পুলিশ ও র্যাবের পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা ও চট্রগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই চার আসামীকে গ্রেফতার করে।

উক্ত ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিম জামালের হত্যার বিষয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই মামলার আসামি সুজন ও বাদল দুবাইতে, শাকিল ভারতে ,অলি হাসান সৌদি আরবে এবং কালা মনির দেশে পলাতক রয়েছে। তাদের দেশে ফেরাতে ও গ্রেফতারে ইন্টারপোলের সহযোগীতা কামনা করেছে র‌্যাব-১১।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ এপ্রিল রোববার রাত ৮টার দিকে গৌরীপুর পশ্চিম বাজার ঈদগাঁ এলাকায় সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে হত্যা করে। পরে নিহত জামালের স্ত্রী বাদী হয়ে ৯ জন এজহারনামী আসামী ও ৯ জনকে অজ্ঞাতনামা করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় মামলা দায়ের করে।