ধর্মঘট আতঙ্কে কুমিল্লায় হাজির বিএনপি নেতারা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

মাত্র একদিন পরেই বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সমাবেশ। অন্যসব সমাবেশের ন্যায় কুমিল্লা বিভাগের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও রয়েছে ধর্মঘট আতঙ্ক। তাই তারা দুদিন আগে সমাবেশের শহর কুমিল্লা হাজির হয়েছেন। ইতোমধ্যে কুমিল্লার পার্শ্ববর্তী ৫ জেলাসহ মোট ৬ জেলার কয়েক হাজার নেতাকর্মী কুমিল্লায় অবস্থান করেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

সরেজমিনে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ের টাউন হল মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, শত শত নেতাকর্মী ভিড় জমিয়েছেন টাউন হল মাঠে। বেশিরভাগের হাতেই আছে ব্যাগ। এদের মধ্যে বেশিরভাগই যুবক। আছে বৃদ্ধও।

কথা বলে জানা গেছে, এদের অনেকেই কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা ও কুমিল্লার বাইরের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে কুমিল্লার সভায় এসেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয় নগর থেকে এসেছেন উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য মজনু মিয়া মেম্বার। তিনি বলেন, সব সম্মেলনে সরকার গাড়ি বন্ধ করে দেয়। তাই চলে আসছি আগে আগে। একটা ভয়তো কাজ করেই। কারণ সরকার কখন কি কইরা বসে বলা যায় না। তবুও আমরা এখান থেকে সমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাচ্ছি না। এখানেই থাকবো এখানেই খাবো। থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তার সঙ্গে এসেছেন মো. ইউনুস মিয়া নামের আরেক নেতা। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আজ রাতের মধ্যে কুমিল্লায় অবস্থান করবে ১০ হাজার নেতাকর্মী। কালও আসবে। পড়শু সমাবেশ সফলভাবে শেষ করে ঘরে ফিরবো।
লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে এসেছেন এক নেতা। নাম বলতে নারাজ এই নেতা বলেন, আমার প্রচার দরকার নাই। আমরা সমাবেশ সফল করে ঘরে যাবো। আমাদের শত শত নেতাকর্মী চলে এসেছেন। শহরেই আছেন। বাস বন্ধ হওয়ার আগেই চলে এসেছি তাই স্বস্তি লাগছে।

চাঁদপুর থেকে আসা বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম বলেন, বাস বন্ধ করে আর লাভ হবে না। আমরা সবাই কুমিল্লায় অবস্থান নেবই। সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার নেতাকর্মী কুমিল্লার বিভিন্ন যায়গায় অবস্থান নিয়েছেন। আমরা রাতের খাবারের জন্য কিছুক্ষণ পরই যাবো। আমাদের আতঙ্ক ছিল বাস বন্ধের। এখন আমরা কুমিল্লায় আর সমস্যা নেই। কাল ট্রেন ও বাসে কুমিল্লায় আসবেন নেতাকর্মীরা।

কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির সভাপতি কবির আহমেদ বলেন, আমাদের কোন দাবি নেই। তাহলে কেন ধর্মঘট করবো। কখনও আমরা ধর্মঘট করিনি। বিএনপি সমাবেশ কেন্দ্র করেও হবে না।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, বাস বন্ধের কোন খবর এখনও আসেনি। আর বাস বন্ধ করে লাভ হবে না। নেতাকর্মীরা কুমিল্লায় আসছেন। যে করেই হোক নেতাকর্মীরা কুমিল্লায় আসবেনই। বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের বাধা দেয়ার খবর আসছে। আমরা বলবো আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চাই। এবারের সমাবেশে কুমিল্লায় ইতিহাস হবে। নেতাকর্মীদের খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।