পাটাতন-রেলিং ভাঙা, জরাজীর্ণ ব্রিজই ভরসা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জরাজীর্ণ ব্রিজই তাদের একমাত্র ভরসা। চারটি কলেজ, তিনটি বিদ্যালয় ও একটি মাদরাসার কয়েকশ’ শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন ব্রিজটি দিয়ে।

বলছি, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চরকাদিরা ইউনিয়নের ভুলুয়া নদীর ওপরে থাকা ব্রিজটির কথা। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। জন্ম থেকেই ঝুঁকিতে ব্রিজটি। তখন কাজের মান ভালো না হওয়ায় মাত্র ২৪ বছর বয়সের মাথায় পুরো ব্রিজ এখন ঝুঁকিতে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর মুহূর্তে ব্রিজটি ভেঙে চরঠিকা-চরবসু সড়কের যাতায়াত বন্ধ হতে পারে।

ব্রিজের পাটাতন ও রেলিং ভেঙে গেছে আরো ৫ থেকে ৭ বছর আগে। পুরো ব্রিজ এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা ও নড়বড়ে এ ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চার উপজেলার কয়েক হাজার পথচারীসহ ছোট-বড় অনেক যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া ব্রিজের ঠিক পূর্ব-দক্ষিণ পাশে রয়েছে চরঠিকা আশ্রয় কেন্দ্র। কেন্দ্রের শত শত লোক এ ব্রিজটি দিয়েই চলাফেরা করেন।

জানা গেছে, উপজেলার হাজিরহাট, করুনানগর, ফজুমিয়ারহাট ও চরবসু যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চরঠিকা-চরবসু সড়কের ভুলুয়া নদীর ওপর প্রায় দুই যুগ আগে ব্রিজটি নির্মিত হয়। ৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও আড়াই মিটার প্রস্থের ব্রিজটি দিয়ে কমলনগর ও রামগতিসহ পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী জেলার সদর ও সুবর্ণচর উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করছেন। এ ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন যাত্রীবাহী পরিবহন ও কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ছোট-বড় অনেক যানবাহন যাতায়াত করে থাকে।

প্রায় ১০ বছর আগে জনগুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজটিতে ভাঙন দেখা দেয়। ব্রিজটির পাটাতন ও রেলিংয়ের কনক্রিট খসে রড বেরিয়ে যায়। রড বের হয়ে গেছে। রেলিং ভেঙে গেছে। পাটাতনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের কারণে মানুষ হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছে। যানবাহন চলাচল অনেকটা বন্ধ।

স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজটি পার হয়ে তাদের কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়। তাছাড়া স্থানীয় শান্তিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফজুমিয়ারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাতাব্বরনগর দারুচ্ছুন্না আলিম মাদরাসা, চরজাঙ্গালীয় এসসি উচ্চ বিদ্যালয়, তোয়াহা-ই আইয়ুব মহিলা কলেজ ও হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজসহ সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকশ’ শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজ ব্যবহার করতে হয়। শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে হলেও এ ব্রিজটির জায়গায় নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এখানকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে তুলতে এ ব্রিজটি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে গেলে কৃষিপণ্য আনা-নেয়া বন্ধ হয়ে পড়বে। এই ব্রিজ একমাত্র ভরসা। মাঠের ফসল তোলা হলে ব্রিজ ব্যবহার করে জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায় এখানকার উৎপাদিত ফসল।

চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইদ্রিস মিয়া জানান, ব্রিজটি ভাঙাচোরা হওয়ার কারণে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ঐ ব্রিজটি পার হয়েই তাকে উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বড় বড় অনেক ব্রিজ নির্মাণ করছে। এই এলাকার হাজারো মানুষের কথা চিন্তা করে এখানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

কমলনগর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার বলেন, বিষয়টি জানা আছে। স্থানীয়দেরও দীর্ঘদিনের দাবি ঝুঁকিপূর্ণ ঐ ব্রিজটির স্থলে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের। আমরা ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং সাড়ে পাঁচ মিটার প্রস্থের নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়েছি। যাচাই বাছাই করে প্রকল্পটি অনুমোদন হলে এবং অর্থ বরাদ্ধ হলে ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।