বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ আজ উন্নত দেশ হয়ে যেতো: সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি

আবুল বাশার রানা, চৌদ্দগ্রাম ।।
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে স্থানীয় সংসদ সদস্য এর কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া-মিলাদ মাহফিল শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি বলেন, ‘রাষ্ট্রে একজন রিকসাওয়ালাকে যদি কেউ হত্যা করে, আদালতে তার বিচার হয়। দুর্ভাগ্য বাঙালী জাতির, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করা যাবে না মর্মে তৎকালীন খুনি সরকার ইনডেমনিটি আইন পাস করেছিলো। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ওই কালো আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করে। পরে আইনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। অনেক খুনির ফাঁসি হয়েছে, অনেক খুনি এখনো পলাতক রয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশ আজ আমেরিকা, লন্ডন, কানাডা ও জাপানের মত উন্নত দেশ হয়ে যেতো। স্বাধীনতা বিরোধি এ জামায়াত-শিবির রাজাকার। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ দূর্বার গতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতা বিরোধিরা এখনো দেশে নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করেই যাচ্ছে। ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবির এ চৌদ্দগ্রামে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২৯ বছর জিয়া, এরশাদ, বেগম খালেদা ক্ষমতায় ছিলো। তাদের আমলে দেশে কোনো উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সমগ্র দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ চৌদ্দগ্রামেও আমরা অনেক উন্নয়ন করেছি। মাত্র ৪ মাস পর আগামী সংসদ নির্বাচন। স্বাধীনতা বিরোধি জামায়াত-বিএনপি রাতের আঁধারে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যদি আওয়ামী লীগ কোনো ভালো কাজ করে থাকে, দয়া করে আপনারা জামায়াত-বিএনপির সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবেন। আওয়ামী লীগ নৌকা মার্কা দিয়ে যাকে চৌদ্দগ্রামে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করবে, আগামী নির্বাচনে যাতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পাস করতে পারে সে লক্ষ্যে আপনারা কাজ করবেন। আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করি।’

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান ভূঁইয়া হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পৌর মেয়র জিএম মীর হোসেন মীরু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রহমত উল্লাহ বাবুল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবিএম এ বাহার, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা আবু তাহের, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আকতার হোসেন পাটোয়ারী, মাহমুদুর রহমান খোকন, ইসহাক খাঁন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি ফারুক হোসেন মিয়াজী, জাকির হোসেন ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কামরুল হাসান মুরাদ, কামরুল আলম মোল্লা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মজিবুর রহমান মিয়াজী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হালিম চৌধুরী নিজাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কামাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক জিএম জাহিদ হোসেন টিপু, ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন, ভিপি মাহবুব হোসেন মজুমদার, নায়িমুর রহমান মজুমদার মাছুম, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সদস্য মাহবুবুল হক মোল্লা বাবলু, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ছৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়া খোকন, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন সর্দার, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হক, উপজেলা যুবলীগ নেতা ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনাম, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়েজুন্নেছা আমিন, উপজেলা শ্রমিক লীগের আরশ মজুমদার, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বদিউল আলম পাটোয়ারী, পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ খাঁন শামীম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তৌফিকুল ইসলাম সবুজ, সাধারণ সম্পাদক কাউছার হানিফ শুভ প্রমুখ।

এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে জাতীয় শোক দিবসের দোয়া, মিলাদ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেনের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তমালিকা পালের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান ভূঁইয়া হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পৌর মেয়র জিএম মীর হোসেন মীরু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবিএম এ বাহার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রহমত উল্লাহ বাবুল, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধ কমান্ডার আবুল হাশেম প্রমুখ। এ সময় প্রধান অতিথি নেতৃত্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।