বরুড়ার পেরপেটি উচ্চবিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

স্টাফ রিপোর্টার ।।

জাতীয় সংগীত পরিবেশন, আনন্দ র‌্যালি, আলোচনা সভা, কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, স্মৃতিচারণা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গত বুধবার কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পেরপেটি উচ্চবিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তি উৎসব হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা হয়। এতে ১৩৪১ জন সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীরা আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে। এ উপলক্ষে বিদ্যালয় অঙ্গনে সাজ সাজ অবস্থা ছিল।

জানা গেছে, গত বুধবার সকাল ১০ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে আনন্দ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি পেরপেটি গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। এরপর কোরআন তেলোয়াত, গীতা পাঠ , জাতীয় সংগীত পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল মমিন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন ৬০ বছর পূর্তি উৎসবের আহবায়ক মো. সোহেল পারভেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ( বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. কবির হোসেন, অর্থমন্ত্রনালয়ের উপসচিব মো. শাহআলম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, কুমিল্লার সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান মজুমদার, বরুড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান, পেরপেটি উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ খান , বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নেয়ামুল হক খান, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বুয়েটের প্রকৌশলী আমির হোসেন মিলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শরীফুল আজম। এতে বিদ্যালয়ের ৩০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বিদ্যালয়ের ১৯৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শরীফুল আলম ও ২০০০ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন মজুমদার।

দুপুরের মধ্যাহ্ন বিরতির পর শুরু হয় সাবেক শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারনা অনুষ্ঠান। এতে স্মৃতির ঝাঁপি মেলে ধরেন সাবেক শিক্ষার্থীরা।

১৯৭৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রুহুল আমিন পাটওয়ারী বলেন, ‘ আমি এ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। পরে শিক্ষকতা করেছি। এরপর বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিতেও ছিলাম। এখন মিলনমেলায় এসে ভাল লাগছে।’

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কুমিল্লা দক্ষিণ গ্রিড বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মানিক লাল মজুমদার বলেন,‘ কতো বছর পর বিদ্যালয়ে এলাম। এখন ছাত্রজীবনের সব কিছু মনে পড়ছে।

১৯৭৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোপা লোধ ‘আমার বাবা প্রয়াত চিত্তরঞ্জন লোধ এ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একটানা ৩৪ বছর প্রধান শিক্ষক ছিলেন। আমরা ছয় ভাই বোন এখানে পড়াশোনা করেছি। এখানে এসে বিদ্যালয় জীবনের সব সুখস্মৃতি মনে পড়ছে।’

১৯৯৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর সতীর্থদের দেখে ভাল লাগছে। ’
সন্ধ্যার পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী প্রতীক হাসান। এরপর এক সময়ের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল আর্ক এর হাসান চেনা গানগুলো শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পরিবেশন করেন। রাত ১২ টা পর্যন্ত ওই উৎসব চলে। এতে অন্তত চার হাজার মানুষ সংগীত উপভোগ করেন।

১৯৬১ সালে পেরপেটি উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘অদম্য স্মৃতি’ নামে একটি সংকলন বের হয়।

৬০ বছর পূর্তি উৎসবের আহবায়ক ও বিদ্যালয়ের ১৯৯১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সোহেল পারভেজ বলেন,‘ খুব কম সময়ের মধ্যে আমরা এ অনুষ্ঠান করেছি। সাবেক ছাত্রছাত্রীরা অনেক মজা করেছেন। সবার সঙ্গে দেখা হল, এ আনন্দ হয়েছে। দিনটির কথা সত্যিই মনে রবে। ’