বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের কারণে ফুটবল ধ্বংসের পথে

সাফ জয়ী কুমিল্লার সাকিল জুনিয়র বললেন-
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

ভাগ্য কখন কাকে কোথায় নিয়ে যায় বলা মুশকিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কখনো এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। গত ছয় বছর আগে অনুর্ধ্ব ১৫ সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া শাকিল জুনিয়র আজ জীবিকার তাগিদে সূদুর কাতারে।
একজন খেলোয়াড়ের জাতীয় দলের রাডারে আসতে প্রয়োজন হয় ফুটবল ফেডারেশনের পূর্ণ সহযোগিতা।
সাকিল জুনিয়র” অত্যন্ত মেধাবী খেলোয়াড় ছিল। ফুটবলারদের খেলার অংশ ইনজুরি, সেই ইনজুরিতেই পড়েছিলেন সাকিল । কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো ইনজুরি থেকে ফেরার পর “বাফুফে” কিংবা কোনো ক্লাব কেউই তার পাশে দাঁড়ায়নি । তার অপারেশনের জন্য কোন অর্থ সহযোগিতাও করে নি। নিজ অর্থে ইনজুরির অপারেশন করানোর পর যখন দেশে আসে, তখন কোন ক্লাব তাকে দলে নিতে আগ্রহী হয়নি । এখানেই শেষ সাফ জয়ী ফুটবলারের সপ্ন।
সাকিল জুনিয়র ২০১৮ সালে নেপালে সাফ জয়ী হয়ে তারপর থাইল্যান্ডেও অনুর্ধ্ব ১৬ টুর্নামেন্ট খেলেছেন।
বসুন্ধরা কিংস অনুর্ধ্ব -১৮ দলসহ শান্তিনগর ক্লাব, বাংলাদেশ রেলওয়ে ফুটবল দলসহ আরো অনেক ক্লাবে অল্প সময়ে খেলেছেন।
সাকিল জুনিয়র মুঠোফোনে জানান নিয়মিত লীগ হয় না । আর দেরিতে লীগ হলেও লীগ খেলে ঠিক মতো পারিশ্রমিক পাই না । পারিশ্রমিক চাইলে উল্টো হুমকি দেয় । তাই বাধ্য হয়ে ফুটবল ছেড়ে প্রবাসে চলে আসি । কারণ যেখানে মূল্য নেই, ভবিষ্যৎ নেই । সেখানে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই না । ১২-১৩ বছর ফুটবল খেলে শুণ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রবাসে আসতে হলো । সাফ ফুটবলে জয়ী হবার পর ফুটবল ফেডারেশন ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রত্যেক খেলোয়াড়কে এক লক্ষ টাকা করে সম্মানি দিবেন। কিন্তু এই টাকা এখনো পাইনি। কাজী সালাউদ্দিনের কারণে ফুটবল ধ্বংসের পথে।
শাকিল জুনিয়র আরো জানান, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শামীম ভাই আমার কষ্টার্জিত টাকাও ফেরত দেয়নি । আর বলে আমি ফেইসবুকে লিখলে আমার নামে ডিজিটাল আইনে মামলা করবে।
সাকিলের বড় ভাই সাইফুল বলেন, আমি আসলে মেনে নিতে পারছি না আমার ভাইয়ের এমন অবস্থা, বাধ্য হয়ে তাকে কাতারে নিয়ে এসেছি।
এভাবে অনেক তরুণ মেধাবী ফুটবলাররা পাচ্ছে না ক্লাব কিংবা ফেডারেশনের যথার্থ সহযোগিতা, যার কারনে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে অনেক মেধাবী প্রতিভাবান ফুটবলার।
বুড়িচং উপজেলার ক্রীড়াবিদ মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন সাকিল জুনিয়র একজন ভালো মানের ফুটবল তারকা ছিল। তার অনেক প্রতিভা ছিল। তাকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে বাংলাদেশের ফুটবল একজন ভালো মানের তারকা ফুটবলার পেত।