মনোনয়ন না পাওয়া ১৩ নেতাকে নৌকার পক্ষে প্রচারণা নামার অনুরোধ

কুসিক নির্বাচন : কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে বৈঠক
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

আগামী ১৫ জুনর অনুষ্ঠিতব্য কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের পক্ষে প্রচারণায় মাঠে নামার জন্য মনোনয়ন না পাওয়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ। কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমা এমপি শুক্রবার বিকেলে বৈঠকে উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হওয়ার ঠিক তিন দিন আগে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
জানা যায়, শুক্রবার সাড়ে সকাল দশটা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকায় ধানমন্ডি দলীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে সব ভেদাভেদ ভুলে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫-১১ মে পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। এতে ১৪ জন দলীয় মনোনয়ন পেতে আবেদন ফরম জমা দেন।
বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের যুবও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও মনোনয়ন বঞ্চিত আনিসুর রহমান মিঠু বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বলেছি, আওয়ামীলীগের মনোনয়নের পদ্ধতি পরিবর্তন করার জন্য। কারণ, দল যখন মনোনয়ন ফরম বিতরণ করেছে তখন আমরা সংগ্রহ করে জমা দিয়েছি। দল মনোনয়ন যখন দিল না তখন আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলের জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে মনোনয়ন চাওয়ার কারণে আমরা শত্রু হয়ে গেলাম। যিনি মনোনয়ন পাইল তিনি তো এক দিনের জন্যও কাজ করতে বলল না। রিফাত ভাই কাজ করতে না বললেও আমার নেতাকর্মীরা নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করছে।
আঞ্জুম সুলতানা সীমা এমপি বলেন, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সভা হয়। সভায় নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। আমি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন আচরণবিধির কারণে প্রচারণায় অংশ নিতে পারব না। কিন্তু আমার নেতা-কর্মীরা কাজ করছেন।
বৈঠকে উপস্থিত মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে ছিলেন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আঞ্জুম সুলতানা ও মো. ওমর ফারুক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম শিকদার, তথ্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক নুর উর রহমান মাহমুদ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ-বিষয়ক সম্পাদক কবিরুল ইসলাম শিকদার, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আনিসুর রহমান, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য মাসুদ পারভেজ খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য জাকির হোসেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি শ্যামল চন্দ্র ভট্টাচার্য, ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মাহবুবুর রহমান, মহি উদ্দিন মাহী ।

দলীয় সূত্র বলছে, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর বঞ্চিত ১৩ নেতাকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৪১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে রাখা হয়নি। তাঁরাও প্রচারণায় নামেননি। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ কুমিল্লার একটি হোটেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে ১৩ নেতা ও এর বাইরে শ্রমিকনেতা মনির হোসেন ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীনুল ইসলামকে ঢাকায় তলব করে কেন্দ্রীয় কমিটি। সেখানে মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা তাঁদের অভিযোগ উত্থাপন করেন। পরে তাঁদের সব ভেদাভেদ ভুলে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য বলা হয়। মনোনয়নবঞ্চিত ব্যক্তিরাও বলেছেন, তাঁরা কাজ করবেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।