মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী ছিলেন বিনয়ী ও পরিশীলিত সাংবাদিকতার প্রতীক

স্মরণ সভায় বক্তাগণ
সুফিয়ান রাসেল।।
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

বরেণ্য সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক আমোদ সম্পাদক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী ছিলেন বিনয়ী ও পরিশীলিত সাংবাদিকতার প্রতীক। তাঁর মধ্যে কোন অহংকার ছিলো না। অহংকার একটাই সেটা বিনয়। তিনি সৎ, সাহসী ছিলেন। আত্মীয়তা রক্ষায় তিনি অদ্বিতীয়। প্রতিবেশীদের হক রক্ষায় তিনি ছিলেন জাগ্রত। মানুষ হিসাবে তাঁর যে শ্রেষ্ঠত্ব, তাঁর মৃত্যুর পর গত ২৯ বছর কুমিল্লায় এমন একজন বিনয়ী মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কাগজের নৌকা বইটি আমোদ পরিবারের জীবনের ইতিহাস। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংবাদপত্র জগতে মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী আজীবন অমর হয়ে থাকবেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লা টাউন হলের কনফারেন্স রুমে আমোদ প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বীর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী সংসদের সভাপতি খায়রুল আহসান মানিকের সভাপতিত্বে ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরানের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু জাফর খান।
সভায় পরিবারের পক্ষ থেকে অনুভুতি প্রকাশ করেন আমোদ সম্পাদক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বীর একমাত্র পূত্র বাকীন রাব্বী । স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান।
স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক জহিরুল হক দুলাল, বিএমএ কুমিল্লার সাবেক সভাপতি ডা. ইকবাল আনোয়ার, সংসদের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল, প্রবীণ সাংবাদিক প্রদীপ সিংহ রায় মুকুট, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. মাহবুবুর রহমান, বাপা কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী,পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত, সাংস্কৃতিক সংগঠক রাহুল তারন, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লার সহ সভাপতি ওমর ফারুকী তাপস, সাংবাদিক মাহবুব আলম বাবু, সাংবাদিক জসিম উদ্দিন অসীম, এনটিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি মাহফুজ নান্টু প্রমুখ। সভার শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহি উদ্দিন মোল্লা।
স্মরণ সভায় বক্তারা আরো বলেন, আমাদের অনেকের সাংবাদিকতার হাতেখড়ি সাপ্তাহিক আমোদ। এই মুহুর্তে প্রয়োজন মোহাম্মদ ফজলে রাব্বীর মত এমন একজন সাংবাদিক ও সম্পাদকের যিনি শত প্রতিকুলতার মধ্যে থেকেও সততা ও আদর্শকে কখনো বিক্রি করে দেবেন না। সংবাদপত্রকে কখনো পণ্য হিসেবে বিবেচনা করবেন না।
স্মরণসভার পূর্বে বেলা ১১টায় মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী সংসদের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ ফজলে রাব্বীর নগরীর বিঞ্চুপুরস্থ কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন এবং বাদ জোহর নগরীর শাহ সুজা জামে মসজিদে মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী সাহেবের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল করা হয়।
প্রসঙ্গত, মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী ১৯৯৪ সালের ২৮ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন। তিনি ১৯৫৫ সালের ৫ মে সাপ্তাহিক আমোদ প্রকাশ করেন।