শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ

ফেনী প্রতিনিধি ।।
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

ফেনীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের আযোজন করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, শব্দদূষণ নিয়েন্ত্রণে সচেতনতার বিকল্প নেই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, বছরের শুরুতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় শব্দদূষণ কমানোর চেষ্টার কথা গৃহিত হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতনতার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। চলার পথে মানুষকে অযথা শব্দদূষণ হতে বিরত থাকতে সচেতন করতে হবে। এভাবেই সচেতন জাতি তৈরি হবে। একই সঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত আইনে শব্দদূষণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক দাশের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার সুলতানা নাসরিন কান্তার সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফজলে এলাহী। আরো বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদফতর ফেনীর উপপরিচালক শওকত আরা কলি।

এর আগে সকালে শব্দদূষণ ক্ষতিকর দিক নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. মোবারক হোসেন দুলাল। শব্দদূষণ বিষয়ক ভিডিও উপস্থাপন করেন প্রকল্পের ট্রেনিং অ্যান্ড ক্যাম্পেইন স্পেশালিস্ট গাজী মহিবুর রহমান।

এতে অংশ নেয় ফেনী কলেজ রোভার গার্লস গাইড, বিএনসিসি, ফেনী পরিবেশ ক্লাবের সদস্য এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, বহু রকম দূষণ রয়েছে। তবে শব্দদূষণ নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা সবচেয়ে কম করি। কারণ, আমরা প্রত্যেকেই শব্দ দূষণে সম্পৃক্ত। তাই এটি নিরব ঘাতক। এ দূষণের সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার শিক্ষার্থীরা, যদিও শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যত। তাই সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে শব্দদূষণ রোধে ভূমিকা রাখতে হবে।

ফেনী সিভিল সার্জন ডা. শিহাব উদ্দিন বলেন, শব্দ দূষণের কারণে শ্রবণ সমস্যা, বিশেষত বয়স্কদের স্মৃতি শক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে, মাতৃগর্ভে সন্তানের অস্বাভাবিকতাসহ নানাবিধ জটিল সমস্যা তৈরি হয়। অথচ আমরা আমাদের আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে শব্দ দূষণ কমাতে পারি।

স্থানীয় সরকার ফেনীর উপপরিচালক গোলাম মো. বাতেন বলেন, শব্দদূষণ একটি নিরব ঘাতক অথচ এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা নেয়া অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সম্ভব হয় না।

ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোক্তার হোসাইন বলেন, অহেতুক শব্দ মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির বড় কারণ। যার যার অবস্থান হতে এ দূষণ রোধে ভূমিকা বাঞ্ছনীয়।