সময়ের কথা :মাননীয় ভিসি,দয়া করে ছাত্রলীগকে সামলান – শাহাজাদা এমরান

কুবিতে সাংবাদিক হেনস্তা ,অফিস ভাংচুর
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

রাজনীতি মুক্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় গত ১৫ বছর ধরে একক ভাবেই দলীয় এবং হীন আধিপত্য বজায় রেখে রাজনীতি করে আসছে ছাত্রলীগ। যেহেতু প্রতিপক্ষ নেই কিংবা প্রতিপক্ষকে রাজনীতি করার সুযোগ দিচ্ছে না, তাই ছাত্রলীগ কখনো নিজেরা নিজেরা মারামারি করে,কখনোবা হলগুলোতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে,ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বাণিজ্য করতে গিয়ে আবার কখনোবা সাংবাদিকদের গায়ে হাত উঠানোসহ নানা অপকর্মের কারণে বার বার সংবাদ শিরোনামে উঠে আসছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। এমনকি ছাত্রলীগের ছেলেদের চেয়ে কোন অংশেই কম যাননি মেয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও । এবার মেয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও হলে সিট বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন। কুবির যাত্রা শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়া ও এক শ্রেণীর শিক্ষকদের আসকারা পেয়ে বেপরোয়া ছাত্রলীগ দিন দিন আরো বেশী বেপরোয়া,ফ্যাসিস্ট ও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠেছে।

ইতিমধ্যে নানা ঘটনা উপঘটনার মধ্যে দিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ কুবি ছাত্রলীগ কমিটি ভেঙ্গে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ফলে ছাত্রলীগ নেতা রেজা-ই-এলাহী সাবেক হয়ে গেলেও ক্যাম্পাসে তার হীন ও ঘৃনিত আধিপত্য বজায় রাখতে একের পর এক যতসব বিতর্কিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে গত ২৯ মে ২০২৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিনিধি রুদ্র ইকবালকে হেনস্তা করেন রেজা-ই-এলাহির নেতৃত্বে ছাত্রলীগের সাবেক এবং বর্তমান নেতাকর্মীরা।পরবর্তী পর্যায়ে কুবি সাংবাদিক রুদ্র ইকবালের হেনেস্তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রেজা ই এলাহী। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজা-ই -এলাহী দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন ‘গুন্ডামির কি দেখেছ? সাংবাদিকরা এখনও আমাকে চিনে না, আমি কে?’ ’এই ক্যাম্পাস কারো বাপের না’।

সর্বশেষ গতকাল রোববার (৪ জুন-২০২৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি’র (কুবিসাস) অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রেজা-ই-এলাহি ও তার অনুসারীরা। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাবেক নেতা রেজা ই এলাহী সমর্থিত মাহি হাসনাইন, মমিন শুভ, নুর উদ্দিন হোসাইন, স্বজন বরণ বিশ্বাস, আমিরুল বিশ্বাস, সাদ্দাম হোসাইন, আব্দুল্লাহ আল কাফি, দ্বীপ চৌধুরী, নুর মোহাম্মদ, রাকেশ দাস, রাশেদ ইবনে নূর, রিয়া দাশ, সেলিম রেজা, এস কে মাসুম, রাকিব হোসাইনসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা কর্মরত সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এসময় এসকে মাসুম নামে একজনকে বলতে দেখা যায়, ‘সাংবাদিকদের এখন থেকে সরাসরি এ্যাকশন হবে।’

মাননীয় কুবি উপাচার্য মহোদয়, আপনার সাথে আমি কথা বলে আপনার গুণমুগ্ধ ভক্ত হয়ে গিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আপনার দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার মমত্ববোধ এবং কুমিল্লাবাসীর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেয়ার জন্য আপনার ধারাবাহিক বিভিন্ন পদক্ষেপ আপনার প্রতি আমাদের আস্থা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। যদিও নানা কারণে শিক্ষকদের একটা বড় অংশ আপনার বিরোধীতা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সেটি অন্য বিষয়। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিদেশে আয়েশী জীবন আপনি গ্রহণ করেননি। দেশে এসে আপনার মত একজন সজ্জন ব্যক্তিত্ব দেশের শিক্ষাকার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিঃসন্দেহে দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অবদান রেখে চলেছেন আপনি। তাই আপনার কাছে আমাদের প্রত্যাশার মাত্রাটাও অনেক বেশী।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু থেকেই ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় অকাল কুষ্মান্ড নেতা বিশ্ববিদ্যালয়কে জিম্মি করে নানা অপকর্মও কুকর্ম করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও রাজনীতির লেজুরবৃত্তিকারী শিক্ষকদের একটি অংশ নিজেদের আখের গুছাতেই ছাত্রলীগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। কুবি ছাত্রলীগও এসব আস্করা পেয়ে পেয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করে নানা কুকর্ম করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ও দেশের সবচেয়ে প্রাচীন সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ভাবমূর্তি শূণ্যের কোঠায় নিয়ে গেছে।

মাননীয় ভিসি মহোদয়, পরিস্কার ভাষায় আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ রেখে বলছি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের শক্তিশালী অন্যতম সংগঠন কুবি সাংবাদিক সমিতির অফিসে যে সমস্ত ছাত্রলীগ নামধারী নেতাকর্মী হামলা করেছে, ভাংচুর করেছে আমাদের দৃষ্টিতে, সমাজের দৃষ্ঠিতে তারা কোন ভাবেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হতে পারে না। তাদের পরিচয় তারা সন্ত্রাসী,কুখ্যাত রাজনৈতিক ক্যাডার। তাদের ভিতর কোন সভ্যতা, ভব্যতা নেই। যারা প্রকাশ্যে জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলতে পারে ‘ গুন্ডামির কি দেখেছ? সাংবাদিকরা এখনও আমাকে চিনে না, আমি কে?’ তার কোন নৈতিক অধিকার নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মত একটি পবিত্র স্থানে রাজনীতি করার। রেজা-ই এলাহী সে নিজেই বলেছে -গুন্ডামির কি দেখেছ? সুতরাং সে একজন স্বঘোষিত গুন্ডা। এই গুন্ডার নেতৃত্বে অন্য যে সকল গুন্ডা কুবিসাসের অফিস ভাংচুর করেছে, সাংবাদিক রুদ্রকে হেনস্তা করেছে অনতিবিলম্বে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে ভিসি হিসেবে আপনার সক্ষমতার পরিচয় দিন। যাতে লালমাটি খ্যাত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র মাটিতে ছাত্রনেতা নামধারী আর কোন ক্যাডার, গুন্ডা কোন সাংবাদিকের গায়ে হাত উঠাতে এবং অফিস ভাঙতে সাহস না পায় ।

কুবির সাংবাদিকরা পড়াশুনার পাশাপাশি সাংবাদিকতাকে বেছে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই। তাদের কলমের বিন্দুতেই উঠে আসা কুবির সুন্দর পথ চলা। কুবির সাংবাদিকদেরও কিছুটা ত্রুটি বিচ্যুত্তি থাকতে পারে।
কিন্তু ভিসি এএফএম আবদুল মঈন স্যার, ওরা তো কোন ক্যাডার না। রাজনীতির লেজুরবৃত্তি করে না। ক্যাম্পাসকে টাকা বানানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করে না। কুবির সাংবাদিকরাও আপনার ছাত্রও এবং যারা ছাত্র রাজনীতি করে তারাও আপনার ছাত্র। এখন কথা হচ্ছে, কুবির সাংবাদিকরা হচ্ছে আপনার সু সন্তান আর যারা ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি করে তারা হচ্ছে আপনার কুসন্তান। সুতরাং নূন্যতম কোন রকম রাগ অনুরাগের বশবর্তী হয়ে যদি সুসন্তানদেরকে দূরে ঠেলে দিয়ে কুসন্তানদের আশ্রয় দেন তাহলে দেখবেন স্যার একদিন এই কুসন্তান গুলো আপনার চেয়ারে গিয়ে বসে ঠ্যাং দুলাবে তখন হায় হায় করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। অতএব, সাধু সাবধান।

লেখক : সাংবাদিক,সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক। মোবাইল : ০১৭১১-৩৮৮৩০৮।